চাকরির সূত্রে এক শহর থেকে অন্য শহরে বদলি হওয়া এখন আর ঝক্কির কাজ নয়। আপনার সাধের বাইক বা স্কুটিটি বিক্রি করার প্রয়োজন নেই, বরং খুব সহজেই ট্রেনের মাধ্যমে তা পার্সেল করে পাঠিয়ে দিতে পারেন নতুন ঠিকানায়। অনেকেই মনে করেন এটি অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়বহুল একটি প্রক্রিয়া, কিন্তু সঠিক নিয়ম জানা থাকলে বাইক পাঠানো খুবই সহজ।
কীভাবে শুরু করবেন বুকিং প্রক্রিয়া? প্রথমে আপনার নিকটবর্তী এমন একটি স্টেশনে যান যেখানে পার্সেল বুকিংয়ের সুবিধা রয়েছে। সেখানকার পার্সেল অফিস থেকে একটি শিপিং ফর্ম সংগ্রহ করুন। সেখানে মালিকের তথ্য, গন্তব্য স্টেশন ও বাইকের বিস্তারিত বিবরণ সঠিকভাবে পূরণ করুন। এরপর রেল কর্তৃপক্ষ বাইকটি পরিদর্শন ও ওজন করবে এবং দূরত্ব অনুযায়ী ভাড়ার তালিকা তৈরি করবে। টাকা জমা দেওয়ার পর একটি রসিদ দেওয়া হবে, যা গন্তব্যে বাইক বুঝে পাওয়ার সময় অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে।
কী কী নথিপত্র প্রয়োজন? বাইক বুক করার সময় সাথে রাখুন:
আপনার পরিচয়পত্র (যেমন—ভোটার কার্ড বা পাসপোর্ট)।
বাইকের আসল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (RC)।
বৈধ বিমা (ইনস্যুরেন্স) নথি।
সক্রিয় মোবাইল নম্বর। (দ্রষ্টব্য: বাইকটি যদি অন্য কারও নামে থাকে, তবে মূল নথিপত্রের পাশাপাশি মালিকের অনুমোদিত অনুমতিপত্র প্রয়োজন হতে পারে।)ল করার প্রতীকী ছবি
বাইক পাঠানোর আগের জরুরি প্রস্তুতি: রেলের নিরাপত্তা বিধিনিয়ম মানা বাধ্যতামূলক: ১. পেট্রোল খালি করুন: নিরাপত্তার খাতিরে বাইকের ট্যাঙ্কে যেন কোনো জ্বালানি না থাকে, তা নিশ্চিত করুন। ২. প্যাকিং: সাইড মিরর খুলে নিন। হ্যান্ডেল এবং বডি ভালোভাবে প্যাকেট করুন। স্টেশনে থাকা অনুমোদিত প্যাকিং এজেন্সির সাহায্য নিতে পারেন, যার খরচ সাধারণত ৩০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। ৩. বিমা: বাইকের ফার্স্ট-পার্টি বিমা থাকা অত্যন্ত জরুরি, কারণ ট্রানজিট চলাকালীন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হলে এটিই আপনাকে সুরক্ষা দেবে।
খরচ ও ডেলিভারি: দূরত্ব ও বাইকের ওজনের ওপর ভাড়া নির্ভর করে। উদাহরণস্বরূপ, ৮০০ কিলোমিটার দূরত্বে একটি বাইক পাঠাতে প্রায় ৩,০০০ টাকা মতো খরচ হতে পারে। মনে রাখবেন, আপনার বাইকটি আপনার পছন্দের ট্রেনেই যাবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। লাগেজ ভ্যানের জায়গা খালি থাকা সাপেক্ষে এটি অন্য ট্রেনেও পৌঁছাতে পারে। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রসিদ দেখিয়ে বাইকটি সংগ্রহ করুন। নির্দিষ্ট দিনের বেশি স্টেশনে পড়ে থাকলে অতিরিক্ত ডেমারেজ চার্জ দিতে হতে পারে।
সতর্কতা: ট্রেনের রসিদটি অত্যন্ত সাবধানে রাখবেন, কারণ এটি ছাড়া বাইক বুঝে পাওয়া অসম্ভব। স্টেশনে বুকিং করার পরই রসিদটি গন্তব্যে থাকা পরিচিত কারো কাছে পাঠিয়ে দিন বা নিজে যত্ন করে রাখুন।





