গুরুগ্রামের এক স্ট্যান্ড-আপ কমেডি শো-তে ‘৩৭০ টাকার বিরিয়ানি’ নিয়ে করা মন্তব্য এখন জাতীয় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। কমেডিয়ান হিমাংশু জাংড়ার এক বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দানা বেঁধেছে তীব্র উত্তেজনা, যেখানে বিরিয়ানির খরচের বিনিময়ে যৌন সম্পর্কের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। এই ভিডিও ভাইরাল হতেই দেশজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ফলস্বরূপ, সংশ্লিষ্ট সংস্থা হিমাংশুকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে।
এই ঘটনায় মুখ খুলেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সংবিধান বাকস্বাধীনতার অধিকার দিলেও তা অসীম নয়। বিনোদনের নামে শালীনতার সীমা লঙ্ঘন করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ফড়নবিশ আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে কেউ যেন এমন অসংবেদনশীল আচরণ না করেন।
এদিকে, জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW) এই ঘটনাকে নারীর প্রতি যৌন হেনস্থা ও অবমাননা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কমিশনের সভানেত্রী বিজয়া রাহাতকর হরিয়ানা পুলিশের ডিজি-কে দ্রুত এফআইআর দায়ের করে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া, অভিযুক্ত কমেডিয়ান হিমাংশু জাংড়া এবং প্রণীত মোরে-কে আগামী ২২ জুন হাজিরা দেওয়ার জন্য সমন পাঠানো হয়েছে।
আইনজীবীদের মতে, ভারতীয় সংবিধানের ১৯(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, শালীনতা বা নৈতিকতার স্বার্থে বাকস্বাধীনতার ওপর যুক্তিসঙ্গত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যায়। নারীদের সম্মানহানি এবং যৌন হেনস্থাকে বিনোদন হিসেবে দেখানো এই আইনি সীমার স্পষ্ট লঙ্ঘন। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি সমাজমাধ্যমে চলছে কঠোর সমালোচনার ঝড়।




