এরাজ্যের স্কুল শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারি নিয়ে আইনি টানাপোড়েনের মাঝেই এবার মাদ্রাসার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে দেশের শীর্ষ আদালতে চরম অস্বস্তিতে পড়ল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মসিহের ডিভিশন বেঞ্চে এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে রাজ্যের নিয়োগ ব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করা হয়।
শুনানি চলাকালীন মাদ্রাসার নিয়োগ প্রক্রিয়ার গলদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচারপতিদের বেঞ্চ সাফ জানায়, “পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ নিয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর!” এরপরই রাজ্যের মাদ্রাসাগুলির লাগামছাড়া নিয়োগ পদ্ধতি নিয়ে একাধিক তীক্ষ্ণ প্রশ্নবাণ ছুড়ে দেয় সর্বোচ্চ আদালত।
আদালতের ৪টি মারাত্মক প্রশ্ন:
সরকারের অনুমতি কোথায়?: বিচারপতিরা জানতে চান, “নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমতি কি নেওয়া হয়েছিল?”
টাকা দেবে সরকার, নিয়ম মানবে না কেন?: রাজ্যের হাজারো মাদ্রাসার দিকে আঙুল তুলে আদালত প্রশ্ন করে, “হাজারো মাদ্রাসা রয়েছে। রাজ্যে সবার পরিচালন কমিটি নিজের মতো নিয়োগ করবে, আর সরকার তার টাকা মেটাবে?”
নিয়োগকারীদের যোগ্যতা কী?: খাতা কলমে যাঁরা ইন্টারভিউ নিচ্ছেন বা নিয়োগ করছেন, তাঁদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শীর্ষ আদালত সরাসরি প্রশ্ন করে, “কারা নিয়োগকারী? তাঁদের কি যোগ্যতা রয়েছে?”
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যেখানে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের নিয়োগ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ইতিমধ্যেই একাধিক মামলা ঝুলে রয়েছে, সেখানে মাদ্রাসা বোর্ডের নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও আদালতের এই ‘ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা’র মন্তব্য সামগ্রিকভাবে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল। এই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপে আদালত কী কড়া নির্দেশ দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সব পক্ষ।





