এক সপ্তাহ কাটতে না কাটতেই ফের বজ্রপাতে লন্ডভন্ড বাঁকুড়া জেলা। গতকাল, শুক্রবার একই দিনে বজ্রপাতে ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে, যা জেলাজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এর আগে গত ১৮ই জুলাই বজ্রপাতে আরও দু’জনের মৃত্যু এবং পাঁচ স্কুলছাত্রীর অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এই নতুন বিপর্যয় বাঁকুড়ার জনজীবনকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।
গতকাল দুপুরে বাঁকুড়ার আকাশে কালো মেঘ জমে প্রবল বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি শুরু হয়। এর ফলেই ওন্দা, কোতুলপুর, জয়পুর, ইন্দাস এবং পাত্রসায়ের থানা এলাকায় এই ৯টি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। বজ্রপাতে আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
মৃতদের বিস্তারিত তথ্য:
সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটেছে ওন্দা ব্লকে, যেখানে চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওন্দার কামারকাটা এলাকার নারায়ণ সর (৪৮), কল্যাণীর রামকৃষ্ণপুরে তিলকা মাল (৪৯) নামের এক মহিলা, মাকড়কোন্দা ভাদুলডাঙ্গা গ্রামের জবা বাউরী (৩৮) নামের আরও এক মহিলা এবং ছাগুলিয়ায় প্রতিমা রায় (৩২) নামের এক মহিলার মৃত্যু হয়েছে বাজ পড়ে।
এছাড়াও, ইন্দাস থানার বাঙালচক এলাকায় শেখ ইসমাইল মন্ডল (৬০) মারা গেছেন এবং বুলটি বাগদী নামের এক মহিলা আহত হয়েছেন। কোতুলপুর থানার খিরি গ্রামের বাসিন্দা জিয়াউল হক মোল্লা (৫০) মারা গেছেন এবং আসপিয়া মোল্লা গুরুতর আহত হয়েছেন। বাঁকুড়ার পাত্রসায়ের থানার কাঁটাবন উদয়পল্লী স্কুল সংলগ্ন এলাকায় মারা গেছেন জীবন ঘোষ (২০)। জয়পুর ব্লকের খড়িকাশুলি গ্রামে উত্তম ভুঁইঞার (৩৮) মৃত্যু হয়েছে এবং বিষ্ণুপুরের বৈকুন্ঠপুরে মদন বাগদি প্রাণ হারিয়েছেন।
কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ:
বর্তমানে জেলাজুড়ে পুরোদমে চাষাবাদের কাজ চলছে। এই সময় পুরুষ ও মহিলা উভয়ই জমিতে চাষের কাজে ব্যস্ত থাকেন। আচমকা বৃষ্টি এবং বজ্রপাত শুরু হতেই নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছনোর আগেই এই বিপত্তি ঘটেছে বলে চাষের কাজে ব্যস্ত মানুষজন জানিয়েছেন। এই ঘটনায় চাষিদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, কারণ জীবিকার তাগিদেই তাঁদেরকে প্রায়শই খোলা আকাশের নিচে কাজ করতে হয়।
এদিকে, জেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে প্রচার চালানো হচ্ছে। বজ্রপাতের সময় খোলা আকাশের নিচে বা গাছের তলায় আশ্রয় না নিয়ে বাড়ি বা বড় ছাউনির নিচে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতির এমন আকস্মিক রুদ্ররূপের সামনে সতর্কতা সত্ত্বেও প্রাণহানি ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ছে। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বাঁকুড়ার মানুষজন চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।





