ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে আমরা অনেকেই পুরনো কাঠের চেয়ার, ভাঙা আলমারি বা বাতিল ড্রয়ার অনায়াসেই ফেলে দিই কিংবা নামমাত্র দামে বিক্রি করে দিই। কিন্তু আপনি কি জানেন, একটু শৈল্পিক ছোঁয়া দিলে এই ‘আবর্জনা’ দিয়েই আপনার ছাদ বা বারান্দার বাগানকে করে তুলতে পারেন এক টুকরো স্বর্গ? অকেজো আসবাবকে নতুন রূপ দিয়ে বাগান সাজানোর এই ট্রেন্ড এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়। একে বলা হয় ‘আপসাইক্লিং’।
আপনার বাগানের ভোল বদলে দিতে পারে এমন কিছু দারুণ আইডিয়া নিচে দেওয়া হলো:
১. পুরনো চেয়ারে ফুলের ডালি: কাঠের বা লোহার পুরনো চেয়ারের বসার অংশটি ভেঙে গেলে সেটি ফেলে দেবেন না। বসার জায়গায় একটি গামলা বা বড় টব বসিয়ে তাতে লতানো গাছ লাগিয়ে দিন। চেয়ারটিকে উজ্জ্বল রঙে রাঙিয়ে বাগানের এক কোণে রাখলে এটি একটি চমৎকার ‘প্ল্যান্ট স্ট্যান্ড’ হিসেবে কাজ করবে।
২. আলমারি বা ড্রয়ারে উল্লম্ব বাগান: পুরনো আলমারির পাল্লা খুলে সেটিকে শোয়ানো বা খাড়া অবস্থায় ব্যবহার করা যায়। ড্রয়ারগুলোকে ধাপের মতো টেনে বের করে তার ভেতরে মাটি ভরে ছোট ছোট ক্যাকটাস বা সাকুলেন্ট লাগাতে পারেন। একে বলা হয় ‘ভার্টিকাল ড্রয়ার গার্ডেন’, যা দেখতে অত্যন্ত নান্দনিক।
৩. বাসি মইয়ের নতুন ব্যবহার: পুরনো কাঠের মই বা ল্যাডার এখন ইনডোর গার্ডেনিংয়ের বড় হাতিয়ার। মইয়ের প্রতিটি ধাপে ছোট ছোট মাটির টব বা সেরামিক পট সাজিয়ে রাখুন। লতানো মানিপ্ল্যান্ট বা পেটুনিয়া গাছ মই বেয়ে উঠলে বাগানের লুক বদলে যাবে মুহূর্তেই।
৪. রঙ আর পালিশের কারসাজি: যেকোনো পুরনো আসবাব বাগানে রাখার আগে তাতে ভালো মানের ওয়াটারপ্রুফ রঙ বা বার্নিশ করে নিন। যেহেতু বাগান মানেই রোদ-বৃষ্টির খেলা, তাই আসবাবগুলোকে জল থেকে বাঁচাতে ‘অয়েল পেইন্ট’ করা সবচেয়ে ভালো। এতে আসবাব যেমন টেকসই হবে, তেমনি উজ্জ্বল রঙের কারণে বাগান আরও বেশি সজীব দেখাবে।
৫. লোহা ও ধাতব আসবাবের পুনর্জন্ম: পুরনো লোহার র্যাক বা বেঞ্চ থাকলে সেটিকে অ্যান্টিক লুক দিতে পারেন। লোহার গায়ে মরিচা ধরলে সেটি ঘষে নিয়ে মেটালিক স্প্রে পেইন্ট করে নিন। বড় কোনো গাছের টব রাখার জন্য এই ধাতব আসবাবগুলো সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী এবং নজরকাড়া।
পুরনো জিনিসের এই নতুন ব্যবহার কেবল আপনার টাকা সাশ্রয় করবে না, বরং আপনার শখের বাগানকে দেবে একটি ব্যক্তিগত ছোঁয়া। তবে মনে রাখবেন, আসবাব ব্যবহারের আগে তাতে জল নিষ্কাশনের (Drainage) সুব্যবস্থা আছে কিনা তা নিশ্চিত করা জরুরি।





