ভোটের বাক্স পাহারায় নজিরবিহীন কড়াকড়ি! সিসিটিভি থেকে কিউআর কোড—কমিশনের এই ৪ দাওয়াইয়েই কি নিশ্চিত জয়?

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হতে না হতেই এবার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়েছে গণনাকে কেন্দ্র করে। প্রতিবারই গণনা চলাকালীন অশান্তি বা ইভিএম কারচুপির অভিযোগ ওঠে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তরফে। এবার সেই বিতর্কে ইতি টানতে এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কোমর বেঁধে নামল নির্বাচন কমিশন। গণনাকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে ৪টি বিশেষ ও কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

১. কিউআর কোড ভিত্তিক প্রবেশাধিকার: সবচেয়ে বড় চমক থাকছে প্রবেশের নিয়মে। গণনাকেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলের এজেন্ট—প্রত্যেকের পরিচয়পত্রে থাকবে বিশেষ কিউআর কোড (QR Code)। এই কোড স্ক্যান না করা পর্যন্ত কাউকেই ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। ফলে ভুয়ো পরিচয়পত্র নিয়ে কোনো বহিরাগতের প্রবেশের সম্ভাবনা একেবারেই থাকছে না।

২. ত্রি-স্তরীয় নিরাপত্তা বলয়: গণনাকেন্দ্রের বাইরে থাকবে নিরাপত্তার তিন স্তরীয় প্রাচীর। প্রথম স্তরে থাকবে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF), যা মূল স্ট্রংরুম পাহারা দেবে। দ্বিতীয় স্তরে থাকবে রাজ্য সশস্ত্র পুলিশ এবং বাইরের ঘেরাটোপে থাকবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। কমিশনের অনুমতি ছাড়া এই বলয় ভেদ করা অসম্ভব।

৩. ড্রোন ও সিসিটিভি নজরদারি: পুরো গণনাকেন্দ্র এবং তার আশপাশের এলাকা চব্বিশ ঘণ্টা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় থাকবে। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ড্রোন ব্যবহার করে আকাশপথে নজরদারি চালানোর পরিকল্পনাও রয়েছে কমিশনের। কোনো গোপন গতিবিধি নজরে এলেই তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৪. মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা: গণনাকেন্দ্রের ভেতরে গণনা কর্মী এবং এজেন্টদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কন্ট্রোল রুম ছাড়া অন্য কোথাও থেকে তথ্য আদান-প্রদান রুখতেই এই সিদ্ধান্ত। শুধুমাত্র কাউন্টিং হলের বাইরে নির্দিষ্ট এলাকায় যোগাযোগের সুযোগ থাকবে।

নির্বাচন কমিশনের এই কড়া অবস্থানের পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধীরা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, শেষ পর্যন্ত গণনা কতটা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়, সেটাই এখন দেখার।

বাংলার নির্বাচনের প্রতিটি মুহূর্তের আপডেট এবং নির্ভীক সাংবাদিকতা দেখতে নজর রাখুন ডেইলিয়ান্টে। খবরটি সবার আগে পেতে আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন।

Pratik Saha
  • Pratik Saha