দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে বিরোধীশূন্য মাঠ বা ‘ওয়াকওভার’ মেলার পরেই বড়সড় রাজনৈতিক টুইস্ট। ভোটের ফলপ্রকাশের আগেই এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানের সমস্ত রাজনৈতিক দায় নিতে সরাসরি অস্বীকার করল জোড়াফুল শিবির। বাল্মীকি হওয়ার আগে দস্যু রত্নাকর যেভাবে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন, জাহাঙ্গীরের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই ঘটছে কি না— এই নিয়ে এখন তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে বাংলার রাজনৈতিক মহলে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীন ভোটারদের হুমকি দেওয়া এবং বুথ দখলের ভূরি ভূরি অভিযোগ উঠেছিল জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে। এমনকি তাঁর বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের তল্লাশি অভিযানও তোলপাড় ফেলেছিল। কিন্তু ভোট মিটে যাওয়ার পর এবার সেই বিতর্কিত নেতার থেকে দূরত্ব বাড়াতে শুরু করেছে খোদ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
কেন রত্নাকরের সঙ্গে তুলনা?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলে থাকাকালীন জাহাঙ্গীর নিজের ‘বাহুবলী’ ভাবমূর্তি ব্যবহার করে ফলতা এবং সংলগ্ন বজবজ এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করেছিলেন। যার জেরে বিরোধীরা এবার ভোটের ময়দান থেকেই পিছু হটে এবং তৃণমূল কার্যত ওয়াকওভার পায়। কিন্তু এই ‘সহজ জয়’ আসার পরেই সুর বদলেছে দলের। তৃণমূলের অন্দরে এখন বার্তা দেওয়া হচ্ছে— কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত কুকীর্তি, হুমকি বা দুর্নীতির দায় দল বহন করবে না। ঠিক যেমন পুরাণে দস্যু রত্নাকরের পাপের ভাগ তাঁর পরিবার নেয়নি, তেমনই জাহাঙ্গীরের এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছে তৃণমূল।
দলের অন্দরে তুমুল ড্যামেজ কন্ট্রোল!
তৃণমূলের একাংশের দাবি, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখাই এখন দলের মূল লক্ষ্য। জাহাঙ্গীর খানের অতিরিক্ত বাড়বাড়ন্ত এবং কেন্দ্রীয় এজেন্সির নজরে থাকা নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্ব মোটেও খুশি ছিল না। ওয়াকওভারের মাধ্যমে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার কাজ সম্পন্ন হতেই এখন জাহাঙ্গীরকে কার্যত একঘরে করার কৌশল নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর এবং নিরাপত্তা তুলে নেওয়ার জল্পনা এই তত্ত্বকে আরও জোরালো করেছে।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া: “তৃণমূলের এই নীতি নতুন নয়। যখন প্রয়োজন হয় তখন এই বাহুবলীদের ব্যবহার করা হয়, আর কাজ ফুরোলে কিংবা বিপদ বুঝলে তাঁদের দায় নিতে অস্বীকার করা হয়। জাহাঙ্গীর খান এখন সেই রাজনীতিরই শিকার।” — তীব্র কটাক্ষ বিরোধী শিবিরের।
ফলতার এই ‘বেতাজ বাদশা’র রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কি তবে এখানেই শেষ? দল মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার পর জাহাঙ্গীর এখন কী পদক্ষেপ নেন, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। আপনার কী মনে হয়? কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানান।





