‘পেটে লাথি মারবেন না!’ স্টেশনে দোকান উচ্ছেদ ঘিরে রণক্ষেত্র,রেললাইনে শুয়ে রুখে দাঁড়ালেন হকাররা

রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার গঠনের পরেই রেল স্টেশনগুলির আধুনিকীকরণের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে বড় থেকে ছোট—সব স্টেশনেই শুরু হয়েছে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ অভিযান। সেই অভিযানেই এবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা স্টেশন।

গোবরডাঙায় চরম উত্তেজনা শিয়ালদা-বনগাঁ শাখার গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন গোবরডাঙা। দীর্ঘদিন ধরে এই স্টেশনের তিনটি প্ল্যাটফর্ম জুড়ে গজিয়ে উঠেছিল অসংখ্য দোকান। সোমবার এই দোকানগুলি ভাঙতে রেল কর্তৃপক্ষ আসতেই শুরু হয় প্রবল বিক্ষোভ। উপায়ন্তর না দেখে জীবন বাজি রেখে রেললাইনের ওপর শুয়ে পড়েন হকার ও ব্যবসায়ীরা। এমনকি, অনেক প্রবীণ ব্যবসায়ী ও মহিলারাও লাইনে মাথা দিয়ে শুয়ে পড়ে প্রতিবাদের সুর চড়ান। তাঁদের একটাই দাবি, ‘‘বিকল্প ব্যবস্থা না করে দোকান ভাঙা চলবে না। আমরা যাব কোথায়?’’

দমদমের পর এবার গোবরডাঙা শুধুমাত্র গোবরডাঙা নয়, এর আগে দমদম জংশনেও একই ছবি দেখা গিয়েছিল। সেখানেও এক মহিলা ব্যবসায়ী রেললাইনে শুয়ে পড়ে উচ্ছেদ আটকাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিশাল পুলিশ বাহিনী ও আরপিএফ মোতায়েন করে কঠোর হাতে সেই উচ্ছেদ সম্পন্ন করে রেল।

রাজনৈতিক চাপানউতোর রেলের এই উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমান সরকারের কাছে হকারদের বিষয়ে মানবিক হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বামেরা সরাসরি হকারদের পাশে দাঁড়িয়ে বিকল্প পুনর্বাসনের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছে।

বিক্ষোভের মুখে কোথাও কোথাও উচ্ছেদ প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে থমকে গেলেও, আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে রেল কর্তৃপক্ষ কতটা নমনীয় হবে—তা নিয়ে সংশয় কাটছে না। আপাতত স্টেশনে মোতায়েন রয়েছে কড়া পুলিশি নিরাপত্তা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy