তামিল চলচ্চিত্র জগতের ‘দলপতি’ এবং নবগঠিত রাজনৈতিক দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম’ (TVK)-এর প্রধান থালাপথি বিজয়ের বিরুদ্ধে আয়কর ফাঁকির অভিযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে দক্ষিণী রাজনীতি। ২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন বিজয় নিজের রাজনৈতিক জমি শক্ত করছেন, ঠিক সেই সময়েই মাদ্রাজ হাইকোর্টে দাখিল হওয়া একটি পিটিশন তাঁর জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, অভিনেতা বছরের পর বছর ধরে তাঁর আয়ের সঠিক হিসাব গোপন করেছেন এবং সরকারের প্রাপ্য কর ফাঁকি দিয়েছেন।
পুরানো মামলার নতুন মোড়:
এই অভিযোগের শিকড় রয়েছে ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া বিজয়ের ছবি ‘পুলি’-র ওপর। সেই সময় আয়কর বিভাগ অভিনেতার বাড়ি ও অফিসে ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছিল। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেই তল্লাশির সময় বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্যপ্রমাণ উদ্ধার হয়। অভিযোগ করা হয়েছে, অভিনেতা তাঁর সিনেমার পারিশ্রমিকের একটি বড় অংশ নগদে গ্রহণ করেছিলেন, যার কোনো নথিপত্র আয়কর দপ্তরে পেশ করা হয়নি।
কোটি টাকার নগদ লেনদেনের অভিযোগ:
পিটিশন অনুযায়ী, ‘পুলি’ সিনেমার প্রযোজক পি.টি. সেলভাকুমার এবং শিবু অভিনেতাকে মোট ২০ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা পারিশ্রমিক দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৬ কোটি টাকা চেকে দেওয়া হয়েছিল এবং তার ওপর যথাযথ ‘টিডিএস’ (TDS) জমা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগের মূল জায়গাটি হলো বাকি ৪ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা নিয়ে। দাবি করা হয়েছে, এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বিজয় নগদে নিয়েছিলেন এবং এই টাকার ওপর কোনো কর দেওয়া হয়নি। নথিপত্র গোপন করার এই বিষয়টিই এখন আইনি লড়াইয়ের মূল হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র না কি আইনি সত্য?
বর্তমানে বিজয় কেবল একজন অভিনেতা নন, বরং তামিলনাড়ুর রাজনীতির অন্যতম প্রধান মুখ। ২০২৬ সালে তিনি মুখ্যমন্ত্রী পদের অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরছেন। ঠিক এই সন্ধিক্ষণে এমন একটি মামলার পুনরুত্থানকে তাঁর সমর্থকরা ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছেন। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কর ফাঁকির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা বিজয়ের রাজনৈতিক ভাবমূর্তিতে বড় আঘাত হানতে পারে। এখন দেখার বিষয়, মাদ্রাজ হাইকোর্ট এই পিটিশনের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেয় এবং থালাপথি বিজয় কীভাবে এই আইনি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেন।





