মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র এবার ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার পথে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান ও ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাতের জেরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। বর্তমানে পারস্য উপসাগরে ভারতের জ্বালানি সরবরাহকারী অন্তত ১০টি বিদেশি জাহাজ এবং ১৮টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ আটকে রয়েছে। এর মধ্যে অপরিশোধিত তেল, এলপিজি এবং এলএনজি বহনকারী ট্যাঙ্কারও রয়েছে।
কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের বিশেষ সচিব রাজেশ কুমার সিনহা জানিয়েছেন, প্রায় ৫০০টি জাহাজের সঙ্গে ভারতীয় জাহাজগুলিও হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে নোঙর করতে বাধ্য হয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিমার প্রিমিয়াম ০.০৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ০.৭ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যা আমদানির খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। যদিও ইরান সম্প্রতি ‘অশত্রুভাবাপন্ন জাহাজ’ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে এবং ইতিমিধ্যেই ভারতের উদ্দেশ্যে ৮টি জাহাজ রওনা দিয়েছে, তবুও ঝুঁকি কাটেনি। ভারত সরকার বর্তমানে আটকে পড়া ৪৮৫ জন নাবিকের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহনের এই পথ কার্যত অচল হওয়ায় বিশ্ববাজারেও অস্থিরতার ছায়া স্পষ্ট।