“নকল নিয়োগপত্র থেকে সার্ভিস বুক”—কি নেই! বর্ধমানে চাকরি প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস

সরকারি অফিসে গ্রুপ ‘সি’ পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বর্ধমানে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে অবশেষে ধরা পড়ল এই চক্রের মূল পান্ডা শেখ আকবর আলি ওরফে রাজীব। তাকে বর্ধমান আদালতে হাজির করা হলে বিচারক পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘটনার তদন্তে নেমে তৃণমূলের এক প্রাক্তন বিধায়কের নাম জড়িয়ে পড়ায় নতুন করে রাজনৈতিক শোরগোল শুরু হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত: গত ৩১ মে নজরুলপল্লির বাসিন্দা পিন্টু দাস বর্ধমান থানায় অভিযোগ জানান। তাঁর অভিযোগ, বর্ধমানের জিটি রোডের বাসিন্দা স্বরূপ দত্ত, তাঁর স্ত্রী শ্রাবণী দত্ত ও ছেলে সৌরভ দত্ত—এই তিন জন মিলে ১১ জনের কাছ থেকে ৫৫ লক্ষ টাকা হাতিয়েছে। ভুক্তভোগীদের দেওয়া হয়েছে নকল নিয়োগপত্র, সার্ভিস বুক ও ট্রেনিং লেটার। ১ জুন পুলিশ স্বরূপ, শ্রাবণী ও সৌরভকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় প্রচুর ভুয়ো সরকারি নথিপত্র।

প্রাক্তন বিধায়কের যোগসূত্র! তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, এই চক্রের সঙ্গে তৃণমূলের এক প্রাক্তন বিধায়ক খোকন দাসের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। পিন্টু দাসের অভিযোগপত্রেও খোকন দাসের নাম উঠে এসেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের কাছ থেকে পাওয়া ছবি ও তথ্যের ভিত্তিতে ওই প্রাক্তন বিধায়কের যোগ স্পষ্ট হচ্ছে। মূল পান্ডা রাজীবকে জেরা করে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার আশায় পুলিশ।

অন্য ঘটনায় আরও এক গ্রেপ্তার: এদিকে, বর্ধমানের জামালপুরেও প্রতারণার অভিযোগ সামনে এসেছে। সরকারি চাকরি ও আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলার অভিযোগে জামালপুর-১ পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য ধানু সূত্রধরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিধায়ক তহবিলের নামেও এই নেতা দেদার তোলাবাজি চালাতেন। রবিবার ধানু সূত্রধরকে আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে।

একের পর এক তৃণমূল নেতা ও ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে এই ধরণের প্রতারণা ও তোলাবাজির ঘটনায় বিরোধীরা সরব হয়েছেন। শাসক দলের অন্দরেও অস্বস্তি বাড়ছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখন পুরো চক্রটির শিকড় কোথায়, তা খুঁজে বের করতে বদ্ধপরিকর।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy