দুপুরবেলা কি কাজ বন্ধ? প্রখর রোদে শ্রমিকদের বাঁচাতে রাজ্যগুলিকে একগুচ্ছ নির্দেশ দিল দিল্লি!

এপ্রিলের আগুনেই পুড়ছে দিল্লি সহ উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রাও। এই প্রাণঘাতী গরমের হাত থেকে কর্মীদের বাঁচাতে এবার নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র। দেশজুড়ে ক্রমবর্ধমান দাবদাহের (Heatwave) কথা মাথায় রেখে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে একগুচ্ছ জরুরি নির্দেশিকা পাঠাল কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক।

কাজের সময় ও বিরতিতে বদল

প্রখর রোদ ও লু-এর হাত থেকে বাঁচতে মূলত বাইরে কর্মরত শ্রমিকদের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে:

  • কাজের সময় পরিবর্তন: দুপুরের চড়া রোদে কাজ এড়াতে শিফটিং বা কাজের সময় ভাগ করে দিতে হবে।

  • পর্যাপ্ত বিশ্রাম: বিশেষ করে কারখানা ও খনি শ্রমিকদের একটানা কাজ না করিয়ে মাঝেমধ্যেই বিরতি দিতে হবে।

  • শীতলীকরণ ব্যবস্থা: কর্মক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পানীয় জল, ওআরএস (ORS), বিশ্রামের জন্য ছায়াঘেরা জায়গা এবং কুলিং সিস্টেমের ব্যবস্থা করা বাধ্যতামূলক।

স্বাস্থ্য পরীক্ষায় কড়া নজর

শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের অবনতি রুখতে নিয়মিত শারীরিক পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে যাতে হাতের কাছে আইস প্যাক বা তাপ নিরোধক সরঞ্জাম পাওয়া যায়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। পাশাপাশি, কারখানাগুলোতে বায়ু চলাচলের (Ventilation) উপযুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

নির্মাণ ও ইটভাটা শ্রমিকদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা

দিনমজুর, ইটভাটা ও নির্মাণ শ্রমিকরা যেহেতু সরাসরি রোদে কাজ করেন, তাই তাঁদের জন্য অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পোস্টার ও ব্যানারের মাধ্যমে শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:

  • ইএসআইসি (ESIC) হাসপাতালে বিশেষ হেল্প ডেস্ক: হিটস্ট্রোক আক্রান্তদের জন্য বিশেষ ডেস্ক চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • ওষুধের মজুত: ডিসপেনসারি ও হাসপাতালগুলোতে ওআরএস এবং জীবনদায়ী ওষুধের পর্যাপ্ত জোগান রাখতে হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সময়োপযোগী পদক্ষেপগুলি কেবল শ্রমিকদের জীবন রক্ষা করবে না, বরং স্বাস্থ্য ঠিক রেখে উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতেও সাহায্য করবে।