সোনার দামে বড়সড় ধস! রুপার দাম কি আকাশছোঁয়া? কেনা-বেচার আগে আজকের বাজার দর জেনে নিন

বুলিয়ন বাজারে সোনা ও রুপার দামে বড়সড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেল বুধবার। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সোনার দাম অনেকটা কমলেও, রুপার দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। যারা সোনা কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য আজকের এই দরপতন কিছুটা স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে।

সোনার নতুন দর: জাতীয় রাজধানীর বুলিয়ন বাজারে ৯৯.৯% বিশুদ্ধ সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,৩০০ টাকা কমে ১,৪৪,৫০০ টাকায় নেমে এসেছে। গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার এই দাম ছিল ১,৪৫,৮০০ টাকা। টানা দুদিন ধরে দাম কমার ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে কিছুটা আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

রুপার দামের দৌড়: সোনার দাম পড়লেও রুপার দাম রীতিমতো বাড়বাড়ন্ত। বুধবার রুপার দাম প্রতি কিলোগ্রামে ৫,০০০ টাকা বেড়ে ২,৩৫,০০০ টাকায় পৌঁছেছে, যা আগের দিন ছিল ২,৩০,০০০ টাকা। শিল্পক্ষেত্রে রুপার চাহিদা এবং বিশ্ববাজারের ইতিবাচক সংকেতের কারণেই রুপার দামে এই উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে।

দর কমার নেপথ্যে কারণ: বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দামের ওঠানামার মূল কারণগুলো হলো:

  • ডলারের শক্তি: মার্কিন ডলারের মান শক্তিশালী হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ডলার শক্তিশালী হলে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে সোনা কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, যার ফলে বিশ্বব্যাপী চাহিদা কিছুটা কমেছে।

  • মার্কিন বন্ডের ইল্ড: মার্কিন বন্ডের ইল্ড বৃদ্ধির ফলেও বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে আগ্রহ কিছুটা কমিয়ে দিয়েছেন।

  • আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব: স্পট গোল্ডের দাম আউন্স প্রতি ২১.৭৫ ডলার কমে ৩,৯৮৬.০৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা সরাসরি দেশীয় বাজারের ওপর প্রভাব ফেলেছে।

ভবিষ্যৎ কী হতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে সোনা ও রুপার দাম মূলত নির্ভর করবে মার্কিন ডলারের গতিবিধি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার ওপর। ডলারের শক্তি অটুট থাকলে সোনার দামে আপাতত চাপ বজায় থাকতে পারে। তবে রুপার ক্ষেত্রে শিল্পকারখানার চাহিদা বাড়লে দামের এই অস্থিরতা আরও কয়েকদিন বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

(পরামর্শ: সোনা বা রুপা কেনার আগে স্থানীয় বাজারের সঠিক দর একবার যাচাই করে নেওয়া ভালো, কারণ বিভিন্ন ট্যাক্স ও শুল্কের কারণে দামের সামান্য তারতম্য হতে পারে।)