দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, শর্ট সার্কিট নাকি রাঁধুনির গাফিলতি? প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য

দিল্লির মালব্য নগরের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২১ জনের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার তদন্তে নেমে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রাথমিক তদন্তে এলপিজি সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কোনো প্রমাণ মেলেনি। বরং বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল বলে অনুমান করছেন তদন্তকারীরা। হোটেলের ত্রুটিপূর্ণ ওয়্যারিং সিস্টেম এই অগ্নিকাণ্ডকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় হোটেল মালিক লবকেশ বাজাজকে গ্রেফতারের পর এবার রাঁধুনিকেও হেফাজতে নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ওই রাঁধুনির চরম অবহেলার কারণেই আগুনের সূত্রপাত হয়। বর্তমানে পুলিশ ধৃত রাঁধুনি এবং অন্য কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো মৃতদের পরিচয়। অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ২১ জনের মধ্যে ১৩ জনই ছিলেন বিদেশি নাগরিক। নিহতদের মধ্যে নাইজেরিয়া থেকে ৪ জন, কিরঘিস্তান থেকে ৩ জন এবং মোজাম্বিক, লাইবেরিয়া, উজবেকিস্তান, বাংলাদেশ ও ইরাকের একজন করে নাগরিক ছিলেন। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক স্তরেও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

তদন্তে পুলিশের হাতে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। ধৃত হোটেল মালিক লবকেশ বাজাজ তদন্তকারীদের কাছে স্বীকার করেছেন যে, ওই বিল্ডিংয়ের জন্য কোনো ফায়ার নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট (NOC) বা বাধ্যতামূলক ফায়ার ক্লিয়ারেন্স ছিল না। অগ্নিকাণ্ডের পর এই স্বীকারোক্তি তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। যদিও মালিক দাবি করেছেন যে তিনি প্রতিদিনের কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকতেন না, তবুও প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই কীভাবে এই হোটেল বছরের পর বছর চলছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

পুলিশ ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা এখন এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা বড়সড় নিরাপত্তা লঙ্ঘন এবং অনুমোদনহীন নির্মাণের দিকটি খতিয়ে দেখছেন। কর্তৃপক্ষ এটিও জানার চেষ্টা করছেন যে, যদি যথাযথ ফায়ার সেফটি ব্যবস্থা এবং ফায়ার ক্লিয়ারেন্স থাকত, তবে কি এত বড় প্রাণহানি এড়ানো যেত? এই মর্মান্তিক ঘটনাটি দিল্লির হোটেল ও বহুতল ভবনগুলোর অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে। বর্তমানে পুলিশ দক্ষিণ দিল্লির হাউজ রানি এলাকার ওই বিল্ডিংয়ের নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদেরও শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। ন্যায়বিচার এবং দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা এবং নিহতদের দেশের দূতাবাসগুলো।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy