দাদাগিরি নাকি কূটনীতি? ভারতের জন্য রাশিয়ার তেলের দরজা বন্ধ করল আমেরিকা; চরম দুঃসংবাদ শোনালেন স্কট বেসেন্ট!

ভারতের জন্য দিনটা আজ চরম উদ্বেগের। রাশিয়া এবং ইরানের থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে নয়াদিল্লিকে দেওয়া বিশেষ ছাড় আর বাড়ানো হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার মার্কিন রাজস্ব সচিব স্কট বেসেন্ট-এর এই একটি ঘোষণা ভারতের জ্বালানি বাজারে বড়সড় সুনামির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

কেন হঠাৎ এই কঠোর সিদ্ধান্ত? গত ১১ মার্চ মার্কিন রাজস্ব দপ্তর ভারতকে বিশেষ ছাড় দিয়েছিল, যাতে ভারতীয় তেলশোধক সংস্থাগুলি সমুদ্রে আটকে থাকা রুশ ট্যাঙ্কার থেকে তেল কিনতে পারে। এর পর ইরানের ক্ষেত্রেও একই ছাড় মিলেছিল। কিন্তু বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট করে দিয়েছেন:

“রাশিয়া এবং ইরানের থেকে তেল কেনার জন্য যে ৩০ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ আর কোনওভাবেই বাড়ানো হচ্ছে না।”

জ্বালানি সংকটের মুখে ভারত পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত ৩ মার্চ থেকে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরান। এর ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। সেই সময় ভারতকে সামাল দিতে ৬ মার্চ তেল আমদানিতে বিশেষ ছাড় দিয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু এখন সেই ছাড় তুলে নেওয়ায় ভারত বড়সড় তেল সংকটের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ভারতের ওপর ঠিক কী প্রভাব পড়বে?

  • দামবৃদ্ধি: সস্তায় রাশিয়া ও ইরানের তেল মেলা বন্ধ হলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চড়া দামে তেল কিনতে হবে ভারতকে। ফলে পেট্রোল-ডিজেলের দাম আকাশ ছুঁতে পারে।

  • মুদ্রাস্ফীতি: তেলের দাম বাড়লে পাল্লা দিয়ে বাড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম।

  • হরমুজ প্রণালীর জট: যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও হরমুজ প্রণালী এখনও খোলেনি। ফলে সমুদ্রপথে তেল পরিবহণ অনিশ্চিত হয়েই রইল।

শান্তি বৈঠকের দিকে নজর: ইসলামাবাদে ইরান ও আমেরিকার প্রতিনিধিরা দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠকে বসতে চলেছেন। ভারত-সহ সারা বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে ওই বৈঠকের ফলাফলের দিকে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই ‘নো এক্সটেনশন’ পলিসি ভারতের বিদেশনীতি ও অর্থনীতির ওপর কতটা চাপ তৈরি করে, এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy