রবিবার ছুটির দিনে ভারতীয় রাজনীতিতে এক অভাবনীয় মোড়। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন এবার দাবানলে পরিণত হলো। দলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ প্রকাশ্যে তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে যোগ দিলেন ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি (NCPI) নামক একটি অপরিচিত রাজনৈতিক দলে। হাওড়ার বাঁকড়ায় হেড অফিস থাকা এই দলটি মূলত ত্রিপুরার। ২০২৩ সালে ‘কলমের নিব’ প্রতীকে ভোটে লড়া এই দলটির হাত ধরেই এবার জাতীয় রাজনীতির সমীকরণ বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
স্পিকারের দ্বারস্থ বিদ্রোহীরা
দিল্লির অলিন্দ থেকে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, বিদ্রোহী ২০ জনের মধ্যে ১৯ জন সাংসদ ইতিমধ্যে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেছেন। তার আগে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে দীর্ঘ বৈঠক করেন তারা। স্পিকারের কাছে সই সম্বলিত চিঠি জমা দিয়ে এই সাংসদরা সাফ জানিয়েছেন, এখন থেকে তারা এনডিএ (NDA)-কে সমর্থন করবেন। লোকসভার অন্দরে তাদের বসার জায়গা এনডিএ ব্লকে স্থানান্তরের জন্যও আবেদন জানানো হয়েছে।
গাণিতিক সমীকরণে এনডিএ-র সুবিধা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল তৃণমূলের ভাঙন নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট বদলে দেওয়ার মতো একটি ঘটনা। এনসিপিআই (NCPI)-এর এই নতুন শিবিরের সমর্থন এনডিএ জোটকে গাণিতিকভাবে অনেক বেশি শক্তিশালী করে তুলল। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের ক্ষেত্রে যা বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটকে বড় স্বস্তি দেবে।
বাদল অধিবেশন ও গুরুত্বপূর্ণ বিলের ভবিষ্যৎ
আগামী ২১ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। কেন্দ্রের এনডিএ সরকারের লক্ষ্য এখন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করানো, যার জন্য প্রয়োজন দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা। বিশেষ করে ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল—যা মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত—সেটি পাস করানোর ক্ষেত্রে এই ২০ সাংসদের সমর্থন মোক্ষম চাল হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগের অধিবেশনে পর্যাপ্ত সমর্থন না থাকায় বিলটি বড় ধাক্কার মুখে পড়েছিল।
তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের নীরবতা এবং এই বিশাল সংখ্যক সাংসদের দলত্যাগ—সব মিলিয়ে সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর আগেই বিজেপি তথা এনডিএ যে কৌশলগত সুবিধাজনক অবস্থায় পৌঁছেছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, শাসকদল তৃণমূল এই পরিস্থিতি সামলাতে কী পদক্ষেপ নেয়।





