‘সম্মান পেলে দল করব!’ দলবদল নিয়ে বড় বোমা ফাটালেন অনুব্রত, কংগ্রেসে ফেরার জল্পনা তুঙ্গে!

বিধানসভা নির্বাচনের ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এখন কার্যত তাসের ঘরের মতো ভাঙন। এই পরিস্থিতিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মুখ খুলে রীতিমতো বোমা ফাটিয়েছেন বীরভূমের দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য, “সম্মান পেলে দল করব, সম্মান না পেলে করব না।” দলের প্রতি এই চরম অনাস্থা প্রকাশের পরেই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। শোনা যাচ্ছে, পুরোনো দল কংগ্রেসে ফেরার পথ খুঁজছেন তিনি।

রবিবার রামপুরহাটে কংগ্রেসের এক যোগদান কর্মসূচি ছিল। সেই মঞ্চ থেকেই অনুব্রত মণ্ডলের কংগ্রেসে ফেরা নিয়ে মুখ খোলেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, অনুব্রতর ওপর কংগ্রেস কর্মীদের ক্ষোভের শেষ নেই। তবে কর্মীদের সম্মতির ওপরই তাঁর দলবদল নির্ভর করছে। অভিজিৎবাবুর কথায়, “উনি কংগ্রেস কর্মীদের ওপর অনেক অত্যাচার করেছেন। কর্মীরা যদি তাঁকে ক্ষমা করে, তবেই দলে নেওয়া সম্ভব।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বলটি সরাসরি অনুব্রতর কোর্টেই ঠেলে দিলেন অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়।

অনুব্রত মণ্ডলের এই বেসুরো হওয়ার পেছনে রয়েছে গভীর ক্ষোভ। তিনি দলের ভরাডুবির জন্য সরাসরি প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা ‘আইপ্যাক’ (I-PAC)-কে দায়ী করেছেন। অনুব্রতর দাবি, তৃণমূলের প্রতিষ্ঠার সময় বা ২০১১-২০১৪ সালের নির্বাচনে আইপ্যাকের প্রয়োজন হয়নি। আইপ্যাকের ওপর চরম ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “দুনিয়ার সব জায়গা থেকে টাকা তুলেছে আইপ্যাক, দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে তারা। কে এনেছে আইপ্যাককে জানি না, কিন্তু তারাই দলের বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে।” তিনি স্পষ্ট জানান, তিনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে রাজনীতি করেন না, তাঁর আদর্শ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার পাল্লায় পড়ে এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তা তাঁর বোধগম্য নয়।

একইসঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, কংগ্রেসকে চটানোই ছিল তৃণমূলের সবথেকে বড় ভুল। তিনি জানান, শুরুর দিকে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেই দল ক্ষমতায় এসেছিল। বর্তমানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একা হয়ে পড়েছেন বলেও আক্ষেপ করেছেন অনুব্রত। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এখন থেকে দলের স্বার্থে নয়, নিজের সম্মান রক্ষা করে তবেই তিনি রাজনীতি করবেন।

এদিকে, রামপুরহাটের যোগদান কর্মসূচিতে প্রায় সাড়ে তিনশো কর্মী পুনরায় কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। ঘর ওয়াপসি করা কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা শাহজাদা হোসেন কিনু, যিনি দু’মাস আগেই অনুব্রতর হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে, বীরভূমের রাজনৈতিক মাটি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে এবং অনুব্রত মণ্ডলের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্য রাজনীতি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy