পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে শুরু হলো নতুন নাগরিক-কেন্দ্রিক জনসংযোগ কর্মসূচি ‘জনকল্যাণ শিবির’। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই ১৫ থেকে ১৭ জুন রাজ্যজুড়ে এই বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়ায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
রাজ্যের প্রায় ১,১০০টি স্থানে আয়োজিত এই শিবিরগুলি থেকে সাধারণ মানুষ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবেন। সরকারি প্রকল্পের প্রয়োজনীয় ফর্ম থেকে শুরু করে নথিভুক্তকরণ—সবই মিলবে এক ছাদের নিচে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই শিবিরের মূল লক্ষ্য হলো একটি স্বচ্ছ ও নির্ভুল উপভোক্তা তালিকা প্রস্তুত করা।
তবে এই কর্মসূচি থেকে সরাসরি বিগত সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তোপ দেগেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, “আগের সরকারের আমলে চলা প্রকল্পগুলোতে এমন বহু নাম রয়েছে, যারা আদৌ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য নন। আমি যেখানেই হাত দিচ্ছি, সেখানেই দুর্নীতি ও অনিয়মের খোঁজ মিলছে।” উদাহরণস্বরূপ, তিনি ডোমকলের একটি ব্লকের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ভুয়ো অ্যাকাউন্টের হদিশ পাওয়া গিয়েছে। এমনকি পুরুষদের নামে বিধবা ভাতা পাওয়ার মতো অদ্ভুত ঘটনাও সামনে এসেছে।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যাচাই প্রক্রিয়ায় একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, সরকারি সহায়তার অধিকার শুধুমাত্র রাজ্যের প্রকৃত নাগরিকদের। প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দেওয়া এবং ভুয়ো অ্যাকাউন্টগুলো চিহ্নিত করাই বর্তমান প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।
পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর টানা ১২ বছরের কার্যকাল উপলক্ষে বিশেষ কর্মসূচি পালনের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ-এর জন্য জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, আগামী ১ জুলাই থেকে ১২৫ দিনের কাজ শুরু হবে। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইতিমধ্যেই রাজ্যের ৭৯ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র প্রকল্পের টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। স্বচ্ছতা ও উন্নয়নের এই নতুন উদ্যোগে রাজ্যবাসী কতটা উপকৃত হন, এখন সেটাই দেখার।





