‘তৃণমূল উঠে যাবে’, দলবিরোধী মন্তব্যের জেরে বহিষ্কৃত বিধায়কদের বিস্ফোরক হুঙ্কার

নির্বাচনী ভরাডুবির রেশ কাটতে না কাটতেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দানা বেঁধেছে তীব্র রাজনৈতিক সংকট। খোদ দলেরই অন্দরে সই জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। এই বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এনেছেন তৃণমূলের টিকিটে সদ্য জয়ী দুই বিধায়ক— উলুবেড়িয়া পূর্বের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এন্টলির সন্দীপন সাহা। দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় তড়িঘড়ি এই দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করলেও, তাঁরা থেমে থাকতে নারাজ। বরং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তাঁদের আক্রমণের ঝাঁঝ দিন দিন বাড়ছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৬ মে। বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার মাত্র দুদিন পর কালীঘাটের বাড়িতে জয়ী প্রার্থীদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে তৃণমূল সুপ্রিমো সাফ জানিয়ে দেন যে, দলের কঠিন সময়ে অভিষেকের বিরোধিতা বরদাস্ত করা হবে না। সেই সময় উপস্থিত সকলে দাঁড়িয়ে অভিষেককে অভিবাদন জানালেও, বিষয়টিকে ভালোভাবে নেননি ক্ষুব্ধ বিধায়করা।

সন্দীপন সাহার প্রশ্ন, “দলের শীর্ষ নেতৃত্ব অন্যায় করবে আর তার দায়ভার বহন করতে হবে আমাদের মতো বিধায়কদের? এটা হতে পারে না।” অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আরও এক ধাপ এগিয়ে সরাসরি তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, “এই দল আর বেশিদিন থাকবে না, নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।”

তবে অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশটি হলো সই জালিয়াতি। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, দলের বিধায়কদের অনুপস্থিতিতেও তাঁদের নাম ও সই ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি স্বচক্ষে দেখেছি, যে বিধায়করা বৈঠকে উপস্থিত নেই, তাঁদের নাম ও সই খাতাভুক্ত করা হয়েছে। ক্যামাক স্ট্রিটের ওই কোম্পানির কিছু চাকরিজীবী এই নথিপত্র নাড়াচাড়া করছিল। আমি মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি, সাধারণ সম্পাদকের দপ্তরে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের সকলকে তদন্তের আওতায় আনা হোক।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিদ্রোহ কেবল সই জালিয়াতির অভিযোগেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দলের অন্দরে ক্ষমতা দখলের লড়াই এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বেরই বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে দলের অন্দরে যে মেরুকরণ তৈরি হয়েছে, তা এই বহিষ্কারের ঘটনার পর আরও প্রকট হয়ে উঠল।

তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এই দুই বিধায়ককে তড়িঘড়ি দল থেকে বহিষ্কার করে শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা দেওয়া হলেও, ঋতব্রত ও সন্দীপন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কাউকে না কাউকে তো ‘বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধতেই হতো’। তাঁদের এই বিদ্রোহী মনোভাব আগামী দিনে শাসকদলের অন্দরে আরও বড় কোনো ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানায় রেখে এই দুই বিধায়কের লড়াই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy