ওড়িশা এফসি-র বিরুদ্ধে ৩ গোলের দাপুটে জয় এখন অতীত। ইস্টবেঙ্গল শিবিরের ফোকাস এখন আইএসএল-এর (ISL 2026) আসল মরণ-বাঁচন লড়াইয়ের দিকে। আনোয়ার আলি ও মহম্মদ রশিদকে ছাড়াই গত ম্যাচে অনায়াস জয় পেলেও, অস্কার ব্রুজো জানেন সামনে পথ আরও কঠিন। মুম্বই সিটি এফসি ও মোহনবাগান সুপার জায়েন্টের মতো হেভিওয়েট দলগুলোর ওপর চাপ বাড়াতে এবার পূর্ণ শক্তি নিয়ে ঝাঁপাতে চাইছে লাল-হলুদ ব্রিগেড।
আনোয়ারকে নিয়ে কেন ঝুঁকি নেননি অস্কার?
ওড়িশার বিরুদ্ধে ম্যাচে আনোয়ার আলিকে মাঠে না দেখে অনেক ভক্তই চিন্তায় পড়েছিলেন। তবে সূত্রের খবর, এটি ছিল কোচ অস্কার ব্রুজোর একটি সচেতন কৌশল। ভারতীয় দলের এই ডিফেন্ডার বর্তমানে ‘ইউটিলিটি ফুটবলার’-এর ভূমিকা পালন করছেন। রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি গোল করা বা করানোর ক্ষেত্রেও তিনি সমান দক্ষ। সামনের তিনটি কঠিন ম্যাচের কথা মাথায় রেখেই আনোয়ারকে বাড়তি বিশ্রাম দিয়েছেন কোচ, যাতে বড় লড়াইয়ের আগে তিনি সম্পূর্ণ সতেজ থাকতে পারেন।
মুম্বই-পঞ্জাব-মোহনবাগান: লিগ নির্ণায়ক তিন ম্যাচ
ইস্টবেঙ্গলের সামনে এখন তিন ‘পাহাড়’ সমান প্রতিপক্ষ— মুম্বই সিটি এফসি, পঞ্জাব এফসি এবং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান। স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজো মনে করেন, এই তিনটি ম্যাচের ফলই ঠিক করে দেবে চলতি মরসুমে আইএসএল খেতাব কার ঘরে যাবে। স্বস্তির খবর এই যে, মুম্বই ম্যাচের আগে মহম্মদ রশিদ এবং আনোয়ার আলি দুজনেই সম্পূর্ণ ফিট। লাল কার্ডের কারণে মিগুয়েল এবং চোটের জন্য মহেশকে পাওয়া না গেলেও, বাকি স্কোয়াড নিয়ে আত্মবিশ্বাসী কোচ।
মানসিকতায় বদল, লক্ষ্য খেতাব
মঙ্গলবার ম্যাচ শেষে অস্কার বলেন, “এই মরসুমে দলের মানসিকতায় বড় বদল আনতে পেরেছি। ছেলেরা এখন অনেক বেশি ইতিবাচক। তবে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হওয়া চলবে না। সামনে মুম্বই, পঞ্জাব ও মোহনবাগানের মতো দল আছে। এই পরীক্ষাগুলো পার করতে পারলেই আমরা চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে টিকে থাকব।”
টানা ছয়টি ম্যাচে অপরাজিত থাকায় লাল-হলুদ ড্রেসিংরুমের আবহাওয়া এখন যথেষ্ট চনমনে। রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তি এবং আনোয়ার-রশিদের প্রত্যাবর্তন— সব মিলিয়ে ইস্টবেঙ্গল এখন লিগ টেবিলের মগডালে ওঠার জন্য তৈরি। এখন দেখার, এই কঠিন সূচির শেষে অস্কারের ফুটবলাররা সমর্থকদের মুখে শেষ হাসি ফোটাতে পারেন কি না।





