জনশূন্য হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট! মমতার বাড়ি থেকে সরল পুলিশি পাহারা, পাহারাদারহীন ‘দিদি’র ভবিষ্যৎ কী?

একসময়ের অতি-ব্যস্ত ও কঠোর নিরাপত্তায় মোড়া হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট আজ কার্যত মরুভূমি। যে রাস্তায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ ছিল নিয়ন্ত্রিত, আজ সেই রাস্তার মোড় খাঁ খাঁ করছে। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয় এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতাচ্যুতির ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ছবিটা আমূল বদলে গেল। বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ দেখা যায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনের পুলিশি কিয়স্ক ও বুথগুলো সম্পূর্ণ খালি করে দেওয়া হয়েছে। সিজার ব্যারিকেড গতকালই সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল, আজ কার্যত নিরাপত্তার লেশমাত্র নেই সেখানে।

নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর এই নিরাপত্তা কাটছাঁটের বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে প্রবল চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন, তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তাতেও বড় কোপ পড়েছে। সূত্রের খবর, কলকাতা পুলিশ এবং সিকিউরিটি কন্ট্রোল বিভাগ একটি উচ্চপর্যায়ের রিভিউ বা পর্যালোচনা চালায়। সেখানে উঠে আসে যে, মমতা ও অভিষেক দুজনেই তাঁদের জন্য নির্ধারিত ‘জেড প্লাস’ (Z+) ক্যাটাগরির থেকেও অনেক বেশি ‘অতিরিক্ত’ সুরক্ষা পাচ্ছিলেন। রিভিউ রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তার চেয়েও অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন থাকত হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট, কালীঘাট রোড এবং ক্যামাক স্ট্রিটে অবস্থিত অভিষেকের অফিস চত্বরে।

মঙ্গলবার থেকেই এই অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সোমবার ফল ঘোষণার পর মঙ্গলবারই ব্যারিকেড খুলে ফেলা হয়েছিল। আজ সকালে দেখা যায়, গলির মুখের পুলিশকর্মীরাও ডিউটি ছেড়ে চলে গেছেন। সূত্রের খবর, পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে কার কোন ক্যাটাগরির সুরক্ষা পাওয়ার কথা। নিয়ম অনুযায়ী যাঁর যতটা নিরাপত্তা প্রাপ্য, তার বাইরে একটি বাড়তি অংশও আর রাখবে না প্রশাসন। যাদের কোনো নিরাপত্তা পাওয়ার কথা নয়, তাদের ক্ষেত্রেও সুরক্ষা বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

জয়ী পক্ষ দায়িত্ব নেওয়ার আগেই খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুয়ার থেকে পুলিশের এই প্রস্থানকে অনেকেই ক্ষমতার পালাবদলের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। সাধারণ মানুষের কাছে যা ছিল এক দুর্ভেদ্য দুর্গ, আজ তা কেবলই একটি সাধারণ গলি। তৃণমূলের পরাজয়ের সঙ্গে সঙ্গেই যেন প্রশাসনিক দাপট ও ভিভিআইপি কালচারের অবসান ঘটল কালীঘাটে। এখন প্রশ্ন উঠছে, নিরাপত্তার এই দ্রুত পরিবর্তন কি নিছকই প্রশাসনিক নিয়ম, নাকি আসন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তনের এক বড় ইঙ্গিত?

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy