কর্মজীবনে উত্থান-পতন আসতেই পারে। ছাঁটাই হোক বা নিজের ইচ্ছায় বিরতি—চাকরি চলে গেলে প্রথম দুশ্চিন্তা হয় ভবিষ্যৎ সঞ্চয় নিয়ে। বিশেষ করে প্রভিডেন্ট ফান্ড বা পিএফ (PF) অ্যাকাউন্টে জমানো কষ্টার্জিত টাকার ওপর সুদ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে অনেকেই ধন্দে থাকেন। আপনিও কি একই চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন? তবে আপনার জন্য রয়েছে বড় সুখবর।
চাকরি না থাকলেও কি সুদ মেলে?
ইপিএফও (EPFO)-র নিয়ম অনুযায়ী, আপনার অ্যাকাউন্টে নতুন করে টাকা জমা পড়া বন্ধ হলেও পুরানো জমানো টাকার ওপর সুদ পাওয়া বন্ধ হয় না। * ৩৬ মাসের সক্রিয়তা: কোনো টাকা জমা না পড়লে অ্যাকাউন্টটি ৩৬ মাস পর্যন্ত ‘সক্রিয়’ থাকে। এর পর সেটি ‘নিষ্ক্রিয়’ (Inoperative) হিসেবে চিহ্নিত হয়।
সুদের সুবিধা: বড় চমক হলো, অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলেও ৫৮ বছর বয়স পর্যন্ত আপনার জমানো টাকার ওপর নিয়মিত সুদ যোগ হতে থাকে।
চক্রবৃদ্ধি সুদের জাদু: ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দারুণ লাভ
বর্তমানে পিএফ-এ সুদের হার ৮.২৫ শতাংশ, যা সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা ফিক্সড ডিপোজিটের তুলনায় অনেকটাই বেশি। চক্রবৃদ্ধি সুদের (Compound Interest) কারণে আপনার আসল টাকার সাথে প্রতি বছর সুদ যুক্ত হয়ে মূলধন বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। অর্থাৎ, আপনি কাজ না করলেও আপনার টাকা আপনার জন্য কাজ করতে থাকে।
টাকা তোলার আগে সাবধান!
আর্থিক সংকটে পড়লে অনেকেই তড়িঘড়ি পিএফ-এর টাকা তুলে নেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মস্ত বড় ভুল হতে পারে।
আংশিক উত্তোলন: প্রয়োজনে আপনি তহবিলের ৭৫ শতাংশ তুলতে পারেন, বাকি ২৫ শতাংশের জন্য এক বছর অপেক্ষা করতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি: মাঝপথে বড় অঙ্কের টাকা তুলে নিলে আপনি চক্রবৃদ্ধি সুদের বিপুল সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। খুব জরুরি না হলে এই তহবিল না ছোঁয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
কীভাবে চেক করবেন ব্যালেন্স?
এখন আর পিএফ অফিসে দৌড়ানোর প্রয়োজন নেই। আপনার হাতের স্মার্টফোনটিই যথেষ্ট:
UMANG অ্যাপ: সরাসরি সরকারি এই অ্যাপের মাধ্যমে পাসবুক দেখতে পারেন।
EPFO ওয়েবসাইট: অফিসিয়াল পোর্টাল থেকেও সুদের হিসাব রাখা সম্ভব।
মনে রাখবেন: ৫৮ বছর বয়স হয়ে গেলে কিন্তু সুদ বন্ধ হয়ে যায়। তাই অবসরের পর সঠিক সময়ে টাকা তুলে লাভজনক অন্য কোনো স্কিমে বিনিয়োগ করা জরুরি।





