২০০ কোম্পানি মহিলা কমান্ডো আর বুলেটপ্রুফ গাড়ি; বাংলার জন্য কী ছক কষছে কমিশন?

পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোটের কাউন্টডাউন শুরু। তার ঠিক আগেই কলকাতার সল্টলেকে হয়ে গেল এক হাই-ভোল্টেজ মেগা বৈঠক। নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিক থেকে শুরু করে CRPF, BSF, CISF, SSB এবং ITBP-র ডিরেক্টর জেনারেলরা এক টেবিলে বসে তৈরি করলেন ‘মিশন বেঙ্গল’-এর ব্লু-প্রিন্ট। লক্ষ্য একটাই— ২৩ এপ্রিল রাজ্যের ১৫২টি আসনে অবাধ ও ভয়মুক্ত ভোট নিশ্চিত করা।

বাংলার ভোটে আড়াই লক্ষ ‘যমদূত’!

সূত্রের খবর, এবারের নির্বাচনে বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা প্রায় আড়াই লক্ষের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। তবে শুধু জওয়ান নয়, এবারের মূল আকর্ষণ হলো CRPF-এর হাতে থাকা অত্যাধুনিক বুলেটপ্রুফ ‘মার্কসম্যান’ গাড়ি।

কী এই ‘মার্কসম্যান’? > এটি এমন এক সুরক্ষিত যান যা AK-47 বা INSAS রাইফেলের গুলিকেও তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়। এর টায়ারে গুলি লাগলেও এটি কয়েক কিলোমিটার অনায়াসে ছুটতে পারে। মূলত স্পর্শকাতর এবং দুর্গম এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালাতে এই বিশেষ যান ব্যবহার করা হবে।

বিশেষ নজর নারী শক্তিতে: ২০০ কোম্পানি মহিলা কমান্ডো

এবারের ভোটের অন্যতম বড় চমক হলো ২০০ কোম্পানি মহিলা কমান্ডো। বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এই মহিলা বাহিনীকে শুধুমাত্র ভোটের দিন নয়, ভোটের পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য বিশেষভাবে তৈরি রাখা হয়েছে। ৫ দিনের স্পেশাল সেশনের মাধ্যমে তাঁদের গ্রাসরুট লেভেলের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তৈরি করা হয়েছে।

সল্টলেকের বৈঠকের নির্যাস: তৈরি ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রিড’

সল্টলেকের CRPF থার্ড সিগন্যাল সেন্টারে আয়োজিত এই বৈঠকে CISF-এর ডিরেক্টর জেনারেল প্রবীর রঞ্জন স্পষ্ট জানান, “এটি কেবল নিরাপত্তা নয়, গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই।”

  • কুইক রেসপন্স টিম (QRT): যে কোনো গোলমাল রুখতে মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছাবে বিশেষ দল।

  • অ্যান্টি-সাবোটাজ চেক: নাশকতা রুখতে কড়া নজরদারি চলবে এলাকাগুলোতে।

  • ওয়ান ইলেকশন ফোর্স: স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে একটি ‘ইন্টিগ্রেটেড সিকিউরিটি গ্রিড’ তৈরি করা হয়েছে।

ভোট মিটলেই মুক্তি নয়, জারি থাকবে পাহারা

২০২১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার তিক্ত অভিজ্ঞতা ভোলেনি কমিশন। তাই এবার ভোট মিটে যাওয়ার পরেও রাজ্যে ৫০০ কোম্পানির বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ফল ঘোষণা এবং তার পরবর্তী সময়েও অশান্তি রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে হাঁটছে দিল্লি।

সব মিলিয়ে, ২৩ এপ্রিলের আগে বাংলা এখন কার্যত দুর্ভেদ্য দুর্গ। ভোটারদের নির্ভয়ে বুথমুখী করতে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তেও নারাজ কেন্দ্রীয় বাহিনীর শীর্ষকর্তারা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy