ভালোবাসার টানে মানুষ কত কী-ই না করে! কিন্তু বিহারের ভাগলপুরের সুলতানগঞ্জে যা ঘটল, তা দেখে কার্যত থ এলাকাবাসী। প্রেমিকার বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার সংকল্প নিয়ে মোবাইলের হাই-টেনশন টাওয়ারে চড়ে বসলেন এক যুবক। রবিবার ভোর থেকে চলা এই ‘হাইভোল্টেজ’ নাটক চলল টানা ৬ ঘণ্টা!
ভোররাতের চাঞ্চল্য: রবিবার সকাল যখন সবে শুরু হচ্ছে, তখনই শিবনন্দনপুর গ্রামের বাসিন্দারা দেখেন এক যুবক টাওয়ারের একেবারে মগডালে বসে আছেন। যুবকের নাম অরুণ কুমার, বাড়ি পূর্ণিয়ায়। জানা গেছে, তাঁর প্রেমিকা পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। সম্প্রতি প্রেমিকার বিয়ে ঠিক হওয়ার খবর পেতেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। আর সেই অবসাদ থেকেই এই চরম পদক্ষেপ।
৬ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস নাটক: স্থানীয় সূত্রে খবর, ভোর ৪টে নাগাদ ওই টাওয়ারে চড়েন অরুণ। কাকতালীয়ভাবে, তিনি ওই টাওয়ারেই কর্মী হিসেবে কাজ করতেন, ফলে উপরে ওঠা তাঁর জন্য সহজ ছিল। হাতে মোবাইল ফোন নিয়ে সমানে কারোর সঙ্গে কথা বলে যাচ্ছিলেন তিনি। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় সুলতানগঞ্জ থানার পুলিশ, পুলিশ সুপার সান্যম রাজা এবং দমকল বাহিনী।
ঘটনাস্থল থেকে এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান: “গোটা গ্রাম টাওয়ারের নিচে ভিড় করেছিল। পুলিশ মাইক নিয়ে ওপর থেকে নামার অনুরোধ করছিল, কিন্তু যুবক নাছোড়বান্দা। মনে হচ্ছিল যে কোনো মুহূর্তে বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যাবে।”
পুলিশের তৎপরতায় রক্ষা: দীর্ঘ ৬ ঘণ্টার টানটান উত্তেজনার পর, পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকদের অনেক বুঝিয়ে-সুঝিয়ে এবং আশ্বস্ত করার পর যুবককে নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়। নিচে নামার পর পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নিয়েছে। আপাতত তাঁর কাউন্সেলিং করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে।





