তিনি রুপোলি পর্দার ‘কিং অফ রোম্যান্স’। তাঁর এক ইশারায় লাখো ভক্তের মন উদ্বেলিত হয়। কিন্তু পর্দার এই জাঁকজমকের আড়ালে শাহরুখ খানের (Shah Rukh Khan) যে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং আবেগপ্রবণ মন রয়েছে, তা আরও একবার প্রমাণিত হলো। সম্প্রতি গভীর রাতে নিজের এক অতি প্রিয়জনের মৃতদেহ নিয়ে শাহরুখ যা করলেন, সেই কাহিনী প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো থ হয়ে গেছেন নেটিজেনরা। কিং খানের এই মানবিক রূপ দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না তাঁর অতি বড় নিন্দুকেরাありが।
আসলে এই ঘটনাটি বলিউডের বাদশার সেইসব গুণের কথা মনে করিয়ে দেয়, যার জন্য তিনি কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে রাজত্ব করেন।
কে সেই ‘প্রিয়জন’?
বলিউড সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি কোনো সিনেমার দৃশ্য নয়, বরং বাস্তব জীবনের। শাহরুখ খানের দীর্ঘদিনের এক বিশ্বস্ত কর্মচারী তথা তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এক টিম মেম্বার, যিনি বছরের পর বছর ধরে ‘মন্নতে’র সুখ-দুঃখের সঙ্গী ছিলেন, তিনি সম্প্রতি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই খবর পাওয়ামাত্রই শুটিংয়ের সমস্ত ব্যস্ততা ফেলে মন্নতে ছুটে আসেন শাহরুখ।
সেই হাড়হিম করা রাতের অজানা কাহিনী
সাধারণত তারকাদের ক্ষেত্রে দেখা যায়, তাঁরা এই ধরণের শেষকৃত্যে এসে দূর থেকে শ্রদ্ধা জানিয়ে চলে যান। কিন্তু শাহরুখ প্রমাণ করলেন কেন তিনি আলাদা।
শ্মশানে শেষ রাত: গভীর রাতে যখন ওই প্রিয়জনের মৃতদেহ সৎকারের জন্য শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন বাকি সবাইকে অবাক করে দিয়ে শাহরুখ নিজেও সেখানে উপস্থিত হন।
আগলে রাখলেন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত: উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মাঝরাত পেরিয়ে ভোর হওয়া পর্যন্ত শাহরুখ শ্মশানের এক কোণায় দাঁড়িয়ে মৃতদেহ আগলে রেখেছিলেন। নিজের হাতে শেষকৃত্যের যাবতীয় ব্যবস্থা তদারকি করেন তিনি।
কান্নায় ভেঙে পড়লেন বাদশা: অহংকার বা স্টারডমের খোলস ছেড়ে সেদিন গভীর রাতে ওই প্রিয়জনের পরিবারের পাশে বসে কিং খানকে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। তিনি পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করে বলেন, “ও চলে গেলেও, আমি সবসময় তোমাদের পাশে আছি।”
বলিউড মহলের প্রতিক্রিয়া: শাহরুখের এই আচরণের কথা প্রকাশ্যে আসতেই ইন্ডাস্ট্রির এক নামী প্রযোজক মন্তব্য করেছেন, “লোকে শাহরুখের সাফল্য দেখে, কিন্তু তাঁর এই বিশাল মনটা দেখতে পায় না। নিজের কর্মচারীকে যেভাবে তিনি পরিবারের সদস্যের মর্যাদা দিয়ে শেষ সম্মান জানালেন, তা সত্যিই বিরল।”
রুপোলি পর্দার বাইরেও যে একজন মানুষ কতটা মহান হতে পারেন, শাহরুখ খান গভীর রাতের এই ঘটনার মাধ্যমে তা আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন। প্রিয়জনের প্রতি কিং খানের এই ভালোবাসা আপনাকে কতটা স্পর্শ করল? কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানান।





