কেন বারবার বিশ্বকাপ জেতে সেই ৮ দেশই? ফুটবলের রাজত্বের ‘গোপন সূত্র’ ফাঁস!

১৯৩০ সাল থেকে বিশ্বকাপের আসর বসছে, ৮০টিরও বেশি দেশ তাতে অংশ নিয়েছে। কিন্তু ট্রফি জয়ের গৌরব পেয়েছেন মাত্র আটটি দেশ। কেন দশকের পর দশক ফুটবলের রাজত্ব ঘুরেফিরে গুটিকয় দেশের হাতেই থাকছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে সম্প্রতি ‘দ্য ইকোনমিস্ট’ এক গাণিতিক মডেলের সাহায্য নিয়েছে, যা ফুটবল বিশ্বের অন্দরের সমীকরণকে স্পষ্ট করেছে।

সাফল্যের চার স্তম্ভ: দাবা খেলার জনপ্রিয় ‘এলো রেটিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করে বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, ফুটবলে সাফল্যের ৭০ শতাংশ নির্ভর করে মূলত চারটি বিষয়ের ওপর:

  • অর্থনৈতিক সক্ষমতা: আধুনিক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, যুব একাডেমি এবং উন্নত পরিকাঠামো তৈরির জন্য অর্থের জোগান অপরিহার্য। তবে শুধু ধনী হলেই হয় না—যেমন আমেরিকা বা তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো বাস্কেটবল বা অন্যান্য খেলায় বেশি মনোযোগী হওয়ায় ফুটবলে পিছিয়ে থাকে।

  • জনসংখ্যার আকার: বড় জনসংখ্যা মানেই প্রতিভার বড় ভাণ্ডার। তবে ভারত ও চীনের মতো বিশাল জনবহুল দেশের ব্যর্থতা প্রমাণ করে যে, সঠিক পরিকল্পনার অভাবে শুধু মানুষ থাকলেই সাফল্য আসে না।

  • শারীরিক গড়ন: গোলরক্ষক ছাড়া মাঠের ফুটবলারদের জন্য আদর্শ উচ্চতা ১৮১ সেন্টিমিটার (প্রায় ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি)। এই আদর্শ উচ্চতার সঙ্গে দেশের মানুষের গড় উচ্চতার সামঞ্জস্য থাকলেই পারফরম্যান্স ভালো হয়।

  • ভৌগোলিক অবস্থান ও সংস্কৃতি: এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী চলক। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলো ফুটবলের সূতিকাগার হওয়ার কারণে তারা গাণিতিকভাবেই এগিয়ে থাকে। যেমন, দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলোর এশিয়ার দলগুলোকে হারানোর সম্ভাবনা ৯০ শতাংশের বেশি।

কোচিংই আসল চালিকাশক্তি: সাফল্যের পেছনে কোচিং পরিকাঠামো এক বিশাল ভূমিকা পালন করে। উদাহরণ হিসেবে, ভারতে এশিয়ার সর্বোচ্চ স্তরের লাইসেন্সধারী কোচ যেখানে মাত্র ৫০ জনের মতো, সেখানে স্পেনে সেই সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি। ইউরোপে দুই লাখেরও বেশি লাইসেন্সধারী কোচ রয়েছেন, যা অন্য মহাদেশের চেয়ে আকাশছোঁয়া তফাত।

বৃত্ত ভাঙার উপায়: জাপানের উদাহরণ শীর্ষ ২৫ শতাংশ ফুটবল দেশের তালিকায় গত ৫০ বছরে খুব একটা বদল আসেনি। তবে এই বৃত্ত ভাঙার পথ দেখিয়ে দিচ্ছে জাপান। ১৯৯২ সালের ‘১০০ বছরের রূপকল্প’ (Hundred Year Vision) মেনে তৃণমূল স্তর থেকে পেশাদার ক্লাব গড়ে তোলার যে ‘বটম-আপ’ কৌশল জাপান নিয়েছে, তা তাদের আজ বিশ্বমানের ফুটবল জাতিতে পরিণত করেছে। অন্যদিকে, চীনের মতো ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রীয় অর্থায়নের মডেল যে ব্যর্থ, তা আজ প্রমাণিত।

ফুটবল শুধুই একটি খেলা নয়, এটি দেশের মনস্তত্ত্ব ও ভাবমূর্তির প্রতীক। তাই বিশ্বমঞ্চে টিকে থাকতে হলে কেবল প্রতিভা থাকলেই হবে না, প্রয়োজন জাপানের মতো সুদূরপ্রসারী দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy