দেশের বিচারব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্ত খুলে দিলেন সুপ্রিম কোর্ট। একটি দুর্ঘটনা সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত এক ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণে জানাল, গৃহিণীদের কাজকে কেবল ‘ঘরের কাজ’ বলে ছোট করে দেখার দিন শেষ। তাঁদের অবদানের আর্থিক মূল্য বিচার করতে গিয়ে আদালত জানিয়েছে, একজন গৃহিণী বা হোমমেকারকে প্রতি মাসে অন্তত ৩০,০০০ টাকা বেতনের সমতুল্য মর্যাদা দেওয়া উচিত।
আদালতের ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ: বিচারপতিদের বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, যে মহিলারা সংসার সামলান, তাঁদের ‘হোমমেকার’ বলে অবজ্ঞা করা একেবারেই অনুচিত। আদালত বলেছে:
পরিবারের মেরুদণ্ড: মহিলারা শুধুমাত্র রান্না বা ঘর পরিষ্কার করেন না, তাঁরা একটি পরিবারকে আক্ষরিক অর্থেই ধরে রাখেন এবং পরবর্তী প্রজন্মকে গড়ে তোলেন।
দেশ গঠনে অবদান: আদালত মনে করে, পরিবারের শৃঙ্খলা ও সুস্থতা বজায় রাখার মাধ্যমে মহিলারা পরোক্ষভাবে দেশ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তাঁদের এই শ্রম ও ত্যাগের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই।
কেন ৩০,০০০ টাকার মানদণ্ড? দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রে আদালত এই আর্থিক মানদণ্ডটি ব্যবহার করেছে। মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন আদালত দেখেছে, একজন গৃহিণী যদি একজন রাঁধুনি, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, শিশু যত্নকারী এবং প্রশাসনিক ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন, তবে তার বাজারের মূল্য মাসিক ৩০,০০০ টাকার কম হতো না। তাই ক্ষতিপূরণের হিসাবের ক্ষেত্রে সেই পরিমাণ অর্থকে ভিত্তি হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব: এই রায় শুধু একটি মামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ভবিষ্যতে খোরপোশ বা দুর্ঘটনা সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণের প্রতিটি মামলায় গৃহিনীদের অবদানের ক্ষেত্রে একটি বড় নজির হিসেবে কাজ করবে। এতদিন পর্যন্ত গৃহিনীদের আর্থিক আয় ‘শূন্য’ ধরে বিচার করা হতো, যা এবার থেকে আইনিভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
সুপ্রিম কোর্টের এই রায় ভারতীয় গৃহিনীদের সামাজিক ও আইনি মর্যাদায় এক নজিরবিহীন উত্তরণ ঘটাল। সমাজবিজ্ঞানী ও নারী অধিকার কর্মীরা আদালতের এই প্রগতিশীল পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।





