কাঠ কিনতে যাওয়ার আগে সাবধান! ঘুনে ধরা বা পচা কাঠ থেকে বাঁচতে যা অবশ্যই পরীক্ষা করবেন

নিজের স্বপ্নের বাড়ি সাজানোর জন্য আসবাবপত্র তৈরি করা বা শৌখিন কাঠের কাজ—সব ক্ষেত্রেই প্রধান সমস্যা হলো সঠিক কাঠ বেছে নেওয়া। অনেক সময় গ্রাম থেকে গাছ কেনা বা বাজার থেকে কাঠ কেনার সময় মানুষ বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। সঠিক তথ্যের অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীদের পাল্লায় পড়ে টাকা নষ্ট করার নজিরও কম নেই। আপনিও কি কাঠ কিনতে গিয়ে চিন্তিত? তবে আপনার জন্য মুশকিল আসান করতে এগিয়ে এসেছেন বিহারের বেগুসরাইয়ের প্রবীণ কাঠ ব্যবসায়ী দিলীপ সিনহা। দীর্ঘ ৬৫ বছর ধরে আসবাব তৈরির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত দিলীপবাবু লোকাল ১৮-এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে কাঠ চেনার কিছু অব্যর্থ কৌশল জানিয়েছেন।

দিলীপ সিনহার মতে, কাঠ কেনার সময় সবচেয়ে বড় ভুল হলো তার স্থায়িত্ব বা আর্দ্রতা যাচাই না করা। তিনি জানিয়েছেন, কাঠ কেনার প্রথম এবং প্রধান শর্ত হলো কাঠটি যেন সম্পূর্ণ শুকনো হয়। কাঁচা বা ভেজা কাঠ দিয়ে আসবাব বানালে খুব দ্রুত তাতে ফাটল দেখা দেয় এবং আসবাবটি বেঁকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শুধু তাই নয়, ভেজা কাঠে খুব দ্রুত উইপোকা বা অন্যান্য পোকামাকড়ের উপদ্রব ঘটে, যা আপনার মূল্যবান আসবাবকে নিমেষেই ধ্বংস করে দিতে পারে।

ব্যবসায়ী দিলীপবাবু পরামর্শ দিয়েছেন যে, কাঠ চেনার সময় তার ওজন এবং রঙের দিকে নজর দেওয়া জরুরি। শুকনো কাঠ সাধারণত ওজনে হালকা হয় এবং তাতে একটি নির্দিষ্ট সতেজ গন্ধ থাকে। এছাড়াও কাঠের গায়ে কোনো বড় ছিদ্র বা কালো ছোপ আছে কিনা তা খুঁটিয়ে দেখা উচিত। ভালো মানের এবং শুকনো কাঠ কিনলে তা যেমন মজবুত হয়, তেমনই দীর্ঘদিন পালিশ বা ফিনিশিং বজায় থাকে। তাই কাঠের জিনিসের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে সস্তার প্রলোভন ত্যাগ করে সম্পূর্ণ শুকনো ও পোক্ত কাঠ বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। আসবাবের পেছনে হাজার হাজার টাকা খরচ করার আগে এই সামান্য সতর্কতা আপনাকে বড় আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy