মাছের নোংরা জলেই ফলবে সোনা! বাহরাইচের কৃষকের এই ম্যাজিক ট্রিক দেখলে চমকে যাবেন আপনিও

আজকালকার দিনে প্রথাগত চাষাবাদ ছেড়ে কৃষকরা আধুনিক ও লাভজনক পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন। অনেককেই দেখা যায় কৃষিকাজের পাশাপাশি মাছ চাষ করতে। কিন্তু উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচ জেলার কৃষক রানা চেতন সিং যা করে দেখিয়েছেন, তা রীতিমতো তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, যাকে আমরা ‘বর্জ্য’ বলে ফেলে দিই, সঠিক বুদ্ধিতে তা-ই হয়ে উঠতে পারে আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস।

মাছ চাষের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো পুকুরের জল পরিষ্কার রাখা। সাধারণত মাছকে সুস্থ রাখতে নির্দিষ্ট সময় অন্তর পুকুরের জল পরিবর্তন করতে হয়। অধিকাংশ মাছ চাষি এই জলকে দূষিত বা অপ্রয়োজনীয় মনে করে ফেলে দেন। চেতন সিংও আগে তাই করতেন। কিন্তু সঠিক জ্ঞানের অভাবে তিনি যা অপচয় করছিলেন, আজ সেটাই তার ফসলের জন্য ‘তরল সোনা’ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

এই পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের পরামর্শ। চেতন সিং কৃষি বিজ্ঞানীদের সংস্পর্শে আসার পর জানতে পারেন যে, মাছের পুকুরে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায় এবং মাছের বর্জ্যের কারণে জল নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে। বিজ্ঞানীরা তাকে বোঝান, এই তথাকথিত ‘নোংরা জল’ আসলে ফসলের জন্য একটি উচ্চমানের জৈব সার। এতে প্রচুর পরিমাণে নাইট্রোজেন থাকে, যা সরাসরি গাছের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ফলে জমিতে আলাদা করে রাসায়নিক সার দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

চেতন সিং এখন তার খামারে একটি বিশেষ সেচ ব্যবস্থা তৈরি করেছেন। তিনি পুকুর থেকে জল তোলার জন্য শক্তিশালী পাম্প ব্যবহার করেন। তবে এই পদ্ধতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ফিল্টার সিস্টেম। নজল যাতে মাছের বর্জ্য বা শ্যাওলায় আটকে না যায়, সেজন্য তিনি উন্নত ফিল্টার ব্যবহার করেন। এছাড়া সেচের জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন ‘মিনি স্প্রিংকলার’ পদ্ধতি। প্রতি ১০x১০ মিটার ব্যবধানে এই স্প্রিংকলারগুলো বসানো হয়েছে, যা উচুঁ-নিচু জমিতেও সমানভাবে জল পৌঁছে দেয় এবং জলের অপচয় রোধ করে।

এই সমন্বিত চাষ পদ্ধতির ফলে চেতনের একদিকে যেমন সারের খরচ শূন্যে নেমে এসেছে, অন্যদিকে পুকুরের জল নিয়মিত পরিবর্তনের ফলে মাছের বৃদ্ধিও দ্রুত হচ্ছে। বাহরাইচের এই সফল কৃষকের মডেল এখন জেলার অন্যান্য চাষিদের কাছেও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy