রাজস্থানের ভরতপুর শহরের হৃদপিণ্ড এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের প্রতীক সুজন গঙ্গা খাল আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। যে খালটি একসময় শহরের মানুষের তৃষ্ণা মেটাত এবং কৃষকদের জমিতে সোনার ফসল ফলাত, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেই জীবনদায়ী জলধারা আজ বিষাক্ত নর্দমায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ এবং বর্তমান পরিস্থিতি বিচার করলে দেখা যাচ্ছে, এই অমূল্য সম্পদটি এখন কেবল প্রশাসনিক উদাসীনতার এক জ্বলন্ত উদাহরণ।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও রক্ষাকবচ:
সুজন গঙ্গা কেবল একটি খাল নয়, এটি ভরতপুর দুর্গের নিরাপত্তার এক অভেদ্য দেওয়াল ছিল। শত্রুর হাত থেকে দুর্গ বাঁচাতে এই গভীর পরিখাটি প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করত। শুধু সামরিক গুরুত্বই নয়, ভরতপুরের কৃষি ও পানীয় জলের প্রধান আধার ছিল এই খাল। শহরের বাস্তুসংস্থান এবং ভূগর্ভস্থ জলস্তর বজায় রাখতে এর ভূমিকা অপরিসীম।
বর্তমান সংকট:
আজ সেই গৌরবময় ইতিহাস আবর্জনার স্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। প্লাস্টিক, বর্জ্য এবং ড্রেনের দূষিত জল সরাসরি খালে মিশছে। স্বচ্ছ জলধারা এখন কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, এক সময় যে জলের দিকে তাকালে মন ভরে যেত, এখন সেই খালের পাশ দিয়ে হাঁটা দায় হয়ে পড়েছে। মশা এবং দূষণের কারণে এলাকাটি রোগব্যাধির আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে। বিজ্ঞাপন ও রাজনীতির ভিড়ে এই ঐতিহাসিক স্থাপত্যটির কথা সবাই যেন ভুলে বসে আছেন।
প্রশাসনের ভূমিকা ও জনগণের দাবি:
স্থানীয় বাসিন্দারা ‘নিউজ১৮’ এবং ‘লোকাল ১৮’-এর মাধ্যমে তাদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাদের মতে, এখনই যদি ড্রেজিং বা পলি তোলার কাজ শুরু না হয় এবং দূষিত জলের প্রবেশ বন্ধ না করা যায়, তবে আগামী প্রজন্ম সুজন গঙ্গার কথা কেবল ইতিহাসের বইয়েই পড়বে। এটি কেবল একটি পরিবেশগত বিপর্যয় নয়, বরং ভরতপুরের পরিচয়ের ওপর এক বড় আঘাত। প্রশাসনের প্রতি আবেদন জানানো হচ্ছে যেন দ্রুত এই খালটিকে সংস্কার করে এর স্বাভাবিক গতিপথ ফিরিয়ে আনা হয়। সুজন গঙ্গাকে বাঁচানো মানে ভরতপুরের ইতিহাসকে বাঁচানো।





