ইন্ডিয়া (INDIA) ব্লকের অন্দরে বড়সড় ভাঙন। তামিলনাড়ুর শাসকদল ডিএমকে (DMK) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিল যে, তারা আর এই বিরোধী জোটের অংশ নয়। কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের জোট সম্পর্ক ছিন্ন করে তামিলনাড়ুতে বিজয় থালাপতির দল TVK-র হাত ধরে সরকার গঠনের পরই এই চরম সিদ্ধান্ত নিল স্ট্যালিনের দল।
কেন এই বিচ্ছেদ? ডিএমকে মুখপাত্র টিকেএস এলানগোভান সরাসরি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’-র অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, “কংগ্রেস আমাদের সঙ্গে বেইমানি করেছে। দলের কর্মীরা এই ঘটনায় অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। তাঁদের আবেগকে মর্যাদা দিয়েই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, যেখানে কংগ্রেস থাকবে, সেই কোনো জোটে ডিএমকে থাকবে না।” আগামী ৮ জুন ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠকে ডিএমকে-কে আমন্ত্রণ জানানো হলেও, তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা সেই বৈঠকে অংশ নেবে না।
সংসদেও প্রভাব: এই রাজনৈতিক অস্থিরতার আঁচ পড়েছে লোকসভাতেও। ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝি করুণানিধি স্পিকারকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানিয়েছিলেন, লোকসভায় কংগ্রেস সাংসদদের থেকে তাঁদের বসার আসন যেন দূরে রাখা হয়। স্পিকার ডিএমকে-র এই আবেদন মঞ্জুর করেছেন এবং খুব শীঘ্রই লোকসভায় তাঁদের আসন বিন্যাসে পরিবর্তন আনা হবে।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ: ডিএমকে নেতৃত্ব স্পষ্ট করেছে যে, ইন্ডিয়া ব্লকের অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে তাদের কোনো সমস্যা নেই। কোনো নির্দিষ্ট ইস্যুতে প্রয়োজনে তারা অন্যান্য দলের সঙ্গে একযোগে সরব হলেও, জোট হিসেবে আর কংগ্রেসের সঙ্গে থাকা সম্ভব নয়। প্রসঙ্গত, গত লোকসভা নির্বাচনে তামিলনাড়ুতে ডিএমকে-র সঙ্গে জোট বেঁধে কংগ্রেস ২৮টি আসনে লড়ে ৫টিতে জয়ী হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই জোট ভেঙে বিজয় থালাপতির দলে হাত মেলাতেই সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গেছে।
ডিএমকে-র এই সরে আসা জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী শিবিরের ঐক্যকে কতটা দুর্বল করবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।





