বাংলার মসনদ হাতছাড়া হয়েছে ৪ এপ্রিল, কিন্তু তবুও পরাজয় মানতে নারাজ বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলাফল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও তিনি পদত্যাগ না করায় নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে পশ্চিমবঙ্গ। এই পরিস্থিতিতে এবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়লেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি নিজে থেকে পদত্যাগ না করেন, তবে তাঁকে বরখাস্ত করাই একমাত্র পথ।” বাংলার মানুষের ধৈর্য আর পরীক্ষা না করে তাঁকে অবিলম্বে সরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছেন হিমন্ত। এদিকে বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বও আক্রমণাত্মক, দিলীপ ঘোষ মমতাকে ‘শাড়ি পরা ডোনাল্ড ট্রাম্প’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
নির্বাচনে বিজেপির কাছে শোচনীয় পরাজয়ের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক সাংবাদিক বৈঠকে চরম মেজাজি সুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, “আমি হারিনি, তাই রাজভবনে যাব না। ইস্তফাও দেব না।” তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল প্রার্থীরা হারেননি বরং গেরুয়া শিবির ইভিএম দখল করে জিতেছে। অথচ বর্তমান সরকারের মেয়াদ আজ, ৬ মে শেষ হতে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে একগুঁয়ে মনোভাব নিয়ে মমতা কি আদৌ কুর্সিতে টিকে থাকতে পারবেন? আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন— একেবারেই নয়।
প্রবীণ আইনজীবী শেখর নাফাদে জানিয়েছেন, মমতার এই জেদ আসলে সংবিধানের পরিপন্থী। তিনি ব্যাখ্যা করেন, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই ফলাফল ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। আদালতের স্থগিতাদেশ ছাড়া এই ফলাফল মেনে চলা প্রত্যেকের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। নাফাদে সাফ জানান, “মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ না করলে রাজ্যপালের কাছে তাঁকে বরখাস্ত করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনও বিকল্প থাকবে না এবং সেই পদক্ষেপ হবে সম্পূর্ণ বৈধ।”
অন্যদিকে, প্রখ্যাত সংবিধান বিশেষজ্ঞ পিডিটি আচার্য আরও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, এমন কোনও আইনি বিধান নেই যা মমতাকে এই মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বহাল থাকার অনুমতি দেয়। তিনি বলেন, “পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পর কোনও সরকার আর ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইস্তফা না দিলেও কিছু যায় আসে না, কারণ তাঁর মেয়াদ শেষ।” যদি তিনি ভোটার তালিকা বা ইভিএম নিয়ে চ্যালেঞ্জ জানাতে চান, তবে তাঁকে নির্বাচনী পিটিশন দাখিল করতে হবে, কিন্তু সেই মামলার দোহাই দিয়ে তিনি কুর্সি আঁকড়ে থাকতে পারবেন না। বাংলার এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল এখন কী পদক্ষেপ নেন, সেটাই দেখার।





