পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল এবং রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর এবার মুখ খুললেন দেশের অন্যতম প্রবীণ আইনজীবী তথা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কপিল সিব্বল। রাজ্যের হয়ে এবং তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে একাধিক হাই-প্রোফাইল মামলা লড়া এই বর্ষীয়ান নেতার কণ্ঠে এবার ঝরে পড়ল গভীর উদ্বেগ। নির্বাচন পরবর্তী হিংসা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একের পর এক তোপ দেগেছেন তিনি।
“সংবিধানের হার হওয়া উচিত নয়”
এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সিব্বল স্পষ্ট জানান, “নির্বাচন আসবে, যাবে। কিন্তু দিনের শেষে সংবিধানের হার হওয়া উচিত নয়।” তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করা এই আইনজীবীর মতে, বাংলার এই ভোট কেবল দুটি রাজনৈতিক দলের লড়াই ছিল না, এটি ছিল গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর এক বিরাট আঘাত। প্রধানমন্ত্রীর ‘বদলা নয়, বদল চাই’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই সেখানে সরকার ভেঙে দেওয়া কি বদলের রাজনীতি? বিরোধীমুক্ত রাজ্য গড়ার এই মানসিকতা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক।
কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তোপ
নির্বাচন কমিশনকে সরাসরি আক্রমণ করে সিব্বল বলেন, বাংলায় ২৪০০ ব্যাটালিয়ন কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হয়েছিল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৭ হাজার সিএপিএফ জওয়ানের সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবুও কেন ভোট পরবর্তী হিংসা থামছে না? তাঁর দাবি, বর্তমানে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ চালানো হচ্ছে। এতদিন অভিযোগ করা হয়েছিল যে তৃণমূল হিংসা করে, কিন্তু এখন হিংসার শিকার হচ্ছে তৃণমূলই। তাহলে সিএপিএফ কী করছে? এটি কি ‘বদলা’ নেওয়ার রাজনীতি নয়?
গণনায় কারচুপি ও ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের দাবি
নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সিব্বল এক বিস্ফোরক অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, এই নির্বাচন বিজেপির বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল তৃণমূল বনাম নির্বাচন কমিশনের লড়াই। যেসব কেন্দ্রে ভোটার তালিকা থেকে বেশি নাম কাটা গিয়েছে, সেখানেই বিজেপি বেশি ব্যবধানে জিতেছে। গণনা কেন্দ্রে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণ এবং তথ্য গোপন করার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “রাউন্ড ভিত্তিক গণনার কোনো সঠিক তথ্য দেওয়া হয়নি। যদি কোনো হিংসা না হয়ে থাকে, তবে গণনা কেন্দ্রের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করা হোক। কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী ৪৫ দিন এই ভিডিও রাখার কথা।”
সাম্প্রদায়িক উস্কানি ও আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি
নির্বাচনী প্রচারে সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সিব্বল। তিনি বলেন, “হিন্দুদের একজোট হওয়ার ডাক দেওয়া এবং বাংলাকে বাংলাদেশ বানিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। এর ভিত্তিতে ইলেকশন পিটিশন ফাইল হওয়া উচিত।” ভোটের আগে ইডি-র অতি সক্রিয়তা এবং আই-প্যাকের কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনাগুলোকেও তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা হিসেবেই দেখছেন। কপিল সিব্বলের এই মন্তব্যের পর জাতীয় রাজনীতিতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।





