“ইন্টারনেট বিল থেকে বিমার খরচ”—অষ্টম বেতন কমিশনে কি পোয়াবারো রেলকর্মীদের?

কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের জন্য অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) নিয়ে দেশজুড়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই রেলের প্রযুক্তি কর্মীদের সংগঠন ‘ইন্ডিয়ান রেলওয়ে টেকনিক্যাল সুপারভাইজার অ্যাসোসিয়েশন’ (IRTSA) বেতন কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের দাবি তুলে এক বিস্তারিত মেমোর্যান্ডাম জমা দিয়েছে। সংগঠনের প্রস্তাব যদি গৃহীত হয়, তবে রেল কর্মীদের ন্যূনতম বেতন থেকে শুরু করে অন্যান্য ভাতায় আসতে চলেছে ঐতিহাসিক বদল।

ন্যূনতম বেতন ৫২,৬০০ করার দাবি

রেল কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে ন্যূনতম মূল বেতন (Basic Pay) বাড়িয়ে ৫২,৬০০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে IRTSA। সংগঠনের মতে, বর্তমান বাজারের অগ্নিমূল্যের সঙ্গে তাল মেলাতে গেলে এই বৃদ্ধি একান্ত প্রয়োজনীয়। কেবল বেতন বৃদ্ধিই নয়, কাজের দায়িত্ব ও অভিজ্ঞতার নিরিখে পৃথক পৃথক ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ চালুর দাবিও জানানো হয়েছে।

৫ স্তরের ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ও ইনক্রিমেন্ট

বর্তমান একঘেয়ে বেতন কাঠামোর বদলে ৫টি স্তরে ২.৯২ থেকে ৪.৩৮ পর্যন্ত আলাদা আলাদা ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর চালুর দাবি তুলেছে সংগঠন। এর ফলে উচ্চপদস্থ আধিকারিক থেকে শুরু করে সাধারণ স্তরের কর্মীদের বেতনে এক সুষম ভারসাম্য তৈরি হবে। পাশাপাশি প্রতি বছর ন্যূনতম ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট এবং পদোন্নতির সময় বাড়তি দুই বছরের সমপরিমাণ ইনক্রিমেন্টের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

ইন্টারনেট ও প্যাকেজড জলও আসবে ভাতার আওতায়!

সবচেয়ে চমকপ্রদ দাবিটি উঠেছে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে। সংগঠনের দাবি, বর্তমান কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (CPI) সেকেলে হয়ে গিয়েছে। নতুন সূচকে ইন্টারনেট খরচ, প্যাকেজড পানীয় জল এবং স্বাস্থ্য বিমার মতো আধুনিক প্রয়োজনীয় ব্যয়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এছাড়া ডিএ-কে আয়করের আওতার বাইরে রাখার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে।

ডিএ ও অবসরকালীন সুবিধা

সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, যখনই ডিএ ৫০ শতাংশে পৌঁছবে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করে দিতে হবে। এতে কর্মীদের হাতে পাওয়া বেতনের পরিমাণ অনেকটা বাড়বে। মেমোর্যান্ডামে অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা নিয়েও একাধিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা রেল কর্মীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে সহায়ক হবে।

অষ্টম বেতন কমিশন এই বৈপ্লবিক প্রস্তাবগুলোকে কতটা মান্যতা দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে দেশের লক্ষ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি ও রেল কর্মী। কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশের ওপরই নির্ভর করছে তাঁদের আগামীর জীবনযাত্রার মান।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy