“আমরা তো জানতামই স্বরূপ এমনটা করবে”-গ্রেফতারি নিয়ে বিস্ফোরক অনির্বাণ ভট্টাচার্য

টলিউডের দীর্ঘদিনের ‘আতঙ্কের’ নাম স্বরূপ বিশ্বাস অবশেষে জেলবন্দি। স্বরূপের এই গ্রেফতারি যেন বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির একাংশের কাছে এক দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচার। স্বরূপের আমলে ফেডারেশনের কোপ পড়েছিল একাধিক শিল্পী ও কলাকুশলীর ওপর। সেই তালিকায় অন্যতম বড় নাম অভিনেতা-পরিচালক অনির্বাণ ভট্টাচার্য। স্বরূপ বিশ্বাসের পতনের পর এবার নীরবতা ভেঙে মুখ খুললেন ‘ব্যানড’ অনির্বাণ।

‘আমরা তো জানতামই’ সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অনির্বাণ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি নতুন করে কিছু দেখছেন না। অভিনেতার কথায়, ‘‘স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতার হয়েছে বলে আমরা আজ নতুন কিছু জানতে পারলাম, তা নয়। আমরা তো এটা আগে থেকেই জানতাম। আর জানতাম বলেই তো এত দিন এর বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলাম।’’

টেকনিশিয়ানদের দুর্দশা নিয়ে উদ্বেগ অনির্বাণ ব্যক্তিগত ক্ষোভের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন ইন্ডাস্ট্রির কলাকুশলীদের ওপর হওয়া অবিচারের দিকে। তিনি বলেন, ‘‘যাঁরা গ্ল্যামারের আড়ালে প্রতিদিন লড়াই করেন, সেই টেকনিশিয়ানরাই সবচেয়ে বেশি ভুগেছেন। তাঁদের অসুবিধার কথা জেনেই আমি এই অন্যায়ের বিরোধিতা করেছিলাম।’’

ব্যান কালচারের আড়ালে দীর্ঘ লড়াই ২০২৫ সালে ‘রঘু ডাকাত’ ছবির পর থেকে অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে বড় পর্দায় সেভাবে দেখা যায়নি। ফেডারেশনের নীতি ও স্বরূপ বিশ্বাসের ‘স্বৈরাচারী’ মনোভাবের বিরুদ্ধে গিয়ে পরিচালক গিল্ডের হয়ে হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন তিনি। ফলস্বরূপ টলিপাড়ায় কার্যত ব্রাত্য করে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। দেব ছাড়া সেই সময়ে খুব কম মানুষই স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস দেখিয়েছিলেন। দেব ব্যক্তিগতভাবে অনির্বাণের হয়ে ক্ষমা চেয়ে ফেডারেশনের সঙ্গে মিটমাটের চেষ্টা করলেও, অনির্বাণ নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন। তিনি কোনো অনৈতিক আপসে যাননি।

স্বস্তির নিঃশ্বাস টলিপাড়ায় স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি বাংলা ইন্ডাস্ট্রির জন্য এক নতুন বাতাবরণ তৈরি করেছে। গত দুই বছরে কাজ হারানো অনির্বাণ আবার স্বমহিমায় ফিরছেন। দেব পরিচালিত ‘দেশু ৭’-এ তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে। স্বরূপ বিশ্বাসের এই পতনে টলিউডের সেই ‘ব্যান কালচার’-এর কালো মেঘ কাটবে কি না, তা নিয়ে এখন আশাবাদী ইন্ডাস্ট্রি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy