“আমরা একই জাহাজের যাত্রী, ডুবলে একসঙ্গে ডুবব!” মুসলিম প্রতিনিধিদের বৈঠকে কেন এমন বললেন অজিত ডোভাল?

জাতীয় নিরাপত্তা কেবল সীমান্ত রক্ষার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের প্রতিটি সম্প্রদায়ের মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলাও যে তার অবিচ্ছেদ্য অংশ— ১৮ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সেই বার্তাই দিলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল। দেশের প্রথিতযশা মুসলিম বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ এবং শিল্পপতিদের সঙ্গে এক দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ আলোচনায় অংশ নেন তিনি।

‘একই নৌকায় হিন্দু-মুসলমান’

বৈঠকের শুরু থেকেই প্রচলিত ভোট-ব্যাঙ্কের রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মুসলিম সম্প্রদায়ের উন্নয়ন, আধুনিক শিক্ষা এবং কর্মসংস্থান নিয়ে আলোচনা হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা অতিথিদের কথা শোনার পর অজিত ডোভাল ইংরেজি ও উর্দুর মিশ্রণে এক মনমুগ্ধকর ভাষণ দেন। উপস্থিত সকলের মন জয় করে নিয়ে তিনি বলেন, “ভারতে বসবাসকারী হিন্দু ও মুসলমানরা একই জাহাজের যাত্রীর মতো। আমরা হয় একসঙ্গে সাঁতরাব, নয়তো একসঙ্গে ডুবে যাব!” ডোভালের এই মন্তব্যে জাতীয় সংহতির এক শক্তিশালী সুর প্রতিধ্বনিত হয়।

উপস্থিত ছিলেন কারা?

প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও ব্যবসায়ী জাফর সারেশওয়ালার নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দলে সমাজের বিভিন্ন স্তরের কৃতি বাঙালি ও ভারতীয়রা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন:

  • নাইমা খাতুন: উপাচার্য, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় (AMU)।

  • ফারুক প্যাটেল: চেয়ারম্যান, কেপি গ্রুপ (বিখ্যাত রিনিউয়েবল এনার্জি টাইকুন)।

  • কাউসার জাহান: সভাপতি, হজ কমিটি অফ ইন্ডিয়া।

  • ডাঃ জহির কাজী: সভাপতি, আঞ্জুমান-ই-ইসলাম।

  • এছাড়াও জার্মান স্টিল, নিটন ভালভস-এর মতো বড় সংস্থার কর্ণধার এবং এইমস-এর স্বর্ণপদক জয়ী চিকিৎসকরাও উপস্থিত ছিলেন।

‘আমরা নতুন ভারতের অংশ’

বৈঠকে উপস্থিত প্রতিনিধিরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, তাঁরা নিজেদের কেবল কোনো রাজনৈতিক ভোট-ব্যাঙ্ক হিসেবে দেখতে চান না। তাঁদের দাবি ছিল সমান সুযোগ ও উন্নয়ন। জাফর সারেশওয়ালা বলেন, “আমরা নতুন ভারতের অংশ।” স্বাস্থ্য, পরিবেশ রক্ষা এবং উদ্যোক্তা হওয়ার লড়াইয়ে মুসলিম সম্প্রদায় যে ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়ার সক্রিয় অংশীদার হতে চায়, সেই বার্তাই পৌঁছে দেওয়া হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে।

এক নতুন শুরুর ইঙ্গিত

অজিত ডোভালের এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। দেশের শিল্প, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের মুসলিম প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই সরাসরি সংলাপ প্রমাণ করে যে, কৌশলগত নিরাপত্তার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতিকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। এই বৈঠক কি আগামী দিনে সামাজিক মেরুকরণ কমিয়ে প্রকৃত উন্নয়নের পথে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে? এখন সেটাই দেখার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy