দেশের ভাঁড়ার শূন্য, চরম মুদ্রাস্ফীতি আর অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে কার্যত দিশেহারা পাকিস্তান। কিন্তু সেই সব জ্বলন্ত সমস্যা সমাধানের বদলে ফের একবার ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদগারকেই হাতিয়ার করলেন পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। রাওয়ালপিন্ডির জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে (GHQ) এক অনুষ্ঠানে ভারতের নাম না নিয়ে তিনি যে ভাষায় হুমকি দিলেন, তাতে দুই দেশের কূটনৈতিক উত্তেজনার পারদ ফের কয়েক ডিগ্রি চড়ে গেল।
সীমানা ছাড়িয়ে যুদ্ধের হুমকি জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সের ওই অনুষ্ঠানে আসিম মুনির স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ভবিষ্যতে ‘শত্রুদের’ পক্ষ থেকে কোনও অপকর্ম ঘটলে যুদ্ধের পরিণতি শুধু এটুকুতেই সীমিত থাকবে না। বরং তা হবে অত্যন্ত বিপজ্জনক ও বেদনাদায়ক।” এখানেই শেষ নয়, তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের শত্রুরা যেন ভুলে না যায়, পাকিস্তান নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে জানে। এবার যুদ্ধের পরিধি আরও অনেক বাড়বে। আমরা বিষয়টিকে শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ রাখব না।”
কেন এই আকস্মিক আস্ফালন? আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের বর্তমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং ভয়াবহ অর্থনৈতিক দুর্দশা থেকে জনগণের নজর ঘোরানোর জন্যই আসিম মুনির এই ‘লজ্জাজনক’ খেলায় মেতেছেন। দেশের মানুষ যখন রুটি-কপড়া-মকানের জন্য হাহাকার করছে, তখন ফিল্ড মার্শাল পাকিস্তানের সামরিক শক্তি ও পাল্টা আক্রমণের গল্প শুনিয়ে জাতীয়তাবাদকে উসকে দিতে চাইছেন।
ভারতের নাম না নিয়েও লক্ষ্য স্পষ্ট ভাষণে সরাসরি ‘ভারত’ শব্দটির উল্লেখ না থাকলেও, তাঁর প্রতিটি শব্দ যে দিল্লির উদ্দেশেই ছোঁড়া, তা বুঝতে কারোর বাকি নেই। সার্বভৌমত্বের বিষয়ে কোনও আপস না করার কথা বলে তিনি আসলে কাশ্মীর ও সীমান্ত ইস্যুতেই ভারতকে সতর্কবার্তা দিতে চেয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সন্ত্রাসবাদ ও সীমান্ত বিরোধের কারণে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক এমনিতেই অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই পরিস্থিতিতে পাক সেনাপ্রধানের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
একদিকে পাকিস্তানে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট, অন্যদিকে সেনাপ্রধানের এই যুদ্ধের হুঙ্কার— সব মিলিয়ে ইসলামাবাদ এখন কোন পথে হাঁটে, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।





