বিহারে সাধারণ মানুষের অভিযোগ ও দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানে এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল সম্রাট চৌধুরী সরকার। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মানুষের ভোগান্তি কমাতে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ‘সহযোগ শিবির’-এর উদ্বোধন করেন। একই সঙ্গে চালু করা হয়েছে ‘সহযোগ হেল্পলাইন’ এবং ডিজিটাল ‘সহযোগ পোর্টাল’। সরকারের দাবি, এই ত্রিমুখী ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিটি নাগরিকের সমস্যার সময়োপযোগী এবং কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করা হবে।
কড়া হুঁশিয়ারি ও জিরো টলারেন্স নীতি
এই প্রকল্পের উদ্বোধন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশ্যে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ‘সহযোগ পোর্টালে’ দায়ের করা কোনো অভিযোগ যদি ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি না হয়, তবে দায়ী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সাফ জানান, “কর্তব্যে গাফিলতি দেখা গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রথমে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হবে এবং অবহেলা অব্যাহত থাকলে সরাসরি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হতে পারে।” গোটা প্রক্রিয়াটি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় (CMO) থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে, যাতে কোনো স্তরেই দুর্নীতির বা ঢিলেমির সুযোগ না থাকে।
সহযোগ হেল্পলাইন ও পোর্টাল: প্রযুক্তির মেলবন্ধন
জনগণের সুবিধার্থে চালু করা হয়েছে ‘১১০০’ টোল-ফ্রি নম্বর। এখন থেকে সাধারণ মানুষ এই একটি নম্বরে ফোন করেই তাদের অভাব-অভিযোগ নথিভুক্ত করতে পারবেন এবং ‘সহযোগ শিবির’ সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য জানতে পারবেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে sahyog.bihar.gov.in পোর্টালটিও খুলে দেওয়া হয়েছে। যেকোনো নাগরিক ঘরে বসেই অনলাইনে অভিযোগ জানাতে পারবেন এবং ৩০ দিনের মধ্যে সেই অভিযোগের কী নিষ্পত্তি হলো, তা লিখিতভাবে আবেদনকারীকে জানানো হবে।
পঞ্চায়েত স্তরে ‘সহযোগ শিবির’
রাজ্য সরকারের ‘সবার জন্য সম্মান, সহজ জীবন’ অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এখন থেকে প্রতি মাসের প্রথম ও তৃতীয় মঙ্গলবার ‘সহযোগ শিবির’ অনুষ্ঠিত হবে। গ্রামীণ মানুষকে যাতে জেলা বা ব্লক অফিসে দৌড়াতে না হয়, সেই লক্ষ্যে প্রতিটি পঞ্চায়েত সরকারি ভবনেই এই শিবির বসবে। সেখানে নির্দিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে ঘটনাস্থলেই সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করবেন। সরকারের এই উদ্যোগ বিহারের সুশাসন ব্যবস্থায় এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।





