UPSC Aspirant খুনে হাড়হিম করা তথ্য, লিভ-ইন পার্টনারই প্রেমিককে নিয়ে গলা টিপে খুন করে, এসি বিস্ফোরণের নাটক

নয়াদিল্লি: গান্ধী বিহার এলাকায় এক ৩২ বছর বয়সী UPSC Aspirant-এর ঝলসে যাওয়া দেহ উদ্ধারের কয়েক দিন পর, দিল্লি পুলিশ এই খুনের ঘটনায় তাঁর লিভ-ইন পার্টনারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার এই গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেফতার হওয়া ২১ বছর বয়সী ওই তরুণী ফরেনসিক সায়েন্সে বিএসসি পড়তেন। তাঁর সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে তরুণীর প্রাক্তন প্রেমিক এবং তাদের এক সহযোগীকে। তিনজনই উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদের বাসিন্দা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, “ওই তরুণী, যিনি মৃত রামকেশের সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন, তিনি দুই পুরুষের সঙ্গে মিলে তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেন। পরে দেহ আগুনে পুড়িয়ে একটি দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণের রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন।”

মৃত রামকেশ মীনা গান্ধী বিহার এলাকার একটি ভবনের চতুর্থ তলায় থাকতেন।

এসি বিস্ফোরণের নাটক
পুলিশ সূত্রে খবর, “৬ অক্টোবর ফ্ল্যাটে এসি বিস্ফোরণের কারণে আগুন লাগার খবর আসে। দমকল কর্মীরা আগুন নেভান এবং ঘর থেকে খুব খারাপভাবে ঝলসে যাওয়া একটি দেহ উদ্ধার করেন। প্রাথমিকভাবে একটি প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু হয়।”

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ৫ এবং ৬ অক্টোবরের রাতে মুখ ঢাকা দুই ব্যক্তি ভবনে প্রবেশ করে এবং রাত ২টা ৫৭ মিনিটে একজন মহিলাকে তাদের একজনের সঙ্গে বের হতে দেখা যায়। তাদের চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই আগুন লাগে।

তদন্তে ওই মহিলার কল ডিটেইল রেকর্ড (CDR) বিশ্লেষণ করে দেখা যায় যে ঘটনার সময় তিনি ক্রাইম স্পটের কাছাকাছিই ছিলেন। এরপরেই সন্দেহ গাঢ় হয়। ১৮ অক্টোবর মোরাদাবাদে একাধিক তল্লাশি চালিয়ে ওই তরুণীকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি অপরাধ স্বীকার করেন এবং তাঁর দুই সহযোগীর নাম জানান। পরবর্তীতে তাঁদেরও গ্রেফতার করা হয়।

অবসিন ভিডিও এবং খুনের ষড়যন্ত্র
জিজ্ঞাসাবাদে তরুণী পুলিশকে জানান, রামকেশ মীনা তাঁর কিছু আপত্তিকর (Obscene) ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন এবং সেগুলি ডিলিট করতে অস্বীকার করেন। তিনি এই বিষয়টি তাঁর প্রাক্তন প্রেমিককে জানান। প্রাক্তন প্রেমিক রাগে রামকেশকে খুন করার সিদ্ধান্ত নেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই তিনজন রামকেশকে গলা টিপে খুন করার পর তাঁর শরীরে তেল, ঘি এবং মদ্য ঢেলে দেয়। তরুণীর প্রাক্তন প্রেমিক, যিনি এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে কাজ করতেন, তিনি একটি গ্যাস সিলিন্ডারের ভালভ খুলে আগুন ধরিয়ে দেন, যার ফলে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর তাঁরা মৃতের হার্ড ডিস্ক, ল্যাপটপ এবং অন্যান্য জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যান।

পুলিশ অভিযুক্তদের কাছ থেকে একটি হার্ড ডিস্ক, একটি ট্রলি ব্যাগ, মৃতের জামা এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে। মামলার আরও তদন্ত চলছে।