ছাত্রমৃত্যুর নেপথ্যে শুধুই ‘পড়াশোনার চাপ’? বিস্ফোরক দাবি আইআইটি খড়্গপুরের ডিরেক্টরের

গত দেড় বছরে আইআইটি খড়্গপুরে পড়ুয়াদের একের পর এক অস্বাভাবিক মৃত্যুতে তোলপাড় হয়েছে শিক্ষামহল। বরাবরই এই ঘটনার নেপথ্যে ‘অতিরিক্ত পড়াশোনার চাপ’কে কাঠগড়ায় তোলা হয়েছে। কিন্তু এবার এই প্রচলিত ধারণাকেই চ্যালেঞ্জ জানালেন আইআইটি খড়্গপুরের ডিরেক্টর অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী।
কী বললেন ডিরেক্টর? ৭২তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানের পর ডিরেক্টর স্পষ্ট জানান, ছাত্রমৃত্যুর কারণ হিসেবে শুধুমাত্র পড়াশোনার চাপকে দায়ী করাটা বাস্তবসম্মত নয়। তাঁর দাবি, ‘‘আমাদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ২০ শতাংশেরও কম ক্ষেত্রে একাডেমিক চাপের যোগ থাকে। অধিকাংশ ঘটনার নেপথ্যেই থাকে ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা সামাজিক জটিলতা।’’ তাঁর এই মন্তব্য দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে চলমান ছাত্রমৃত্যুর বিতর্ককে এক নতুন মাত্রা দিল।
মানবিক সম্পর্কের ওপর জোর: প্রযুক্তিগত নজরদারি বা এআই (AI)-এর ওপর ভরসা রেখে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলে মত প্রকাশ করেছেন ডিরেক্টর। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের প্রায় ২০ হাজার পড়ুয়া। প্রত্যেকের পাশে সারাক্ষণ কাউন্সেলর রাখা সম্ভব নয়। প্রযুক্তির পাশাপাশি শিক্ষক, ওয়ার্ডেন ও সহপাঠীদের মধ্যে যে মানবিক সংযোগ, সেটাই বড় ভরসা। কোনও পড়ুয়ার আচরণে সামান্য পরিবর্তন দেখলেই যদি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তবেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।’’
অভিভাবকদের প্রতি বার্তা: ছাত্রমৃত্যুর ঘটনায় অভিভাবকদের ভূমিকার কথাও উঠে এসেছে ডিরেক্টরের গলায়। তিনি বলেন, ‘‘ছেলেমেয়ে উচ্চ বেতনের চাকরি পেল কি পেল না, সেটা বড় কথা নয়; তারা যেন সুস্থভাবে বেঁচে থাকে—সেটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য। অতিরিক্ত প্রত্যাশা অনেক সময় অদৃশ্য চাপের জন্ম দেয়, যা পড়ুয়াদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে।’’
পরিসংখ্যান ও বাস্তবতা: দেশজুড়ে অন্যান্য আইআইটি-তেও একই ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে দাবি করেছেন ডিরেক্টর। তাঁর মতে, আইআইটি খড়্গপুরে ছাত্রসংখ্যা দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি হওয়ায় এখানকার ঘটনাগুলো বেশি শিরোনামে উঠে আসে। তবে ডিরেক্টর স্বীকার করে নিয়েছেন যে, একটি মৃত্যুও কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিটি ঘটনা থেকেই শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে এই ধরনের অকাল মৃত্যু রোখার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।