অন্তরঙ্গ ছবি ডিলিট না করায় চরম প্রতিশোধ! লিভ-ইন সঙ্গীকে নৃশংসভাবে খুন করে ঘি, ওয়াইন ঢেলে জ্বালিয়ে দিল প্রেমিকা ও প্রাক্তন

প্রেমের সম্পর্কের অন্তরঙ্গ ছবি ডিলিট না করার ভয়াবহ পরিণতি ঘটল দিল্লিতে। ৩২ বছর বয়সী এক যুবকের অশ্লীল ছবি ডিলিট করার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করায়, তাঁকে নৃশংসভাবে খুন করে ঘি এবং ওয়াইন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিল তাঁর লিভ-ইন সঙ্গিনী ও তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক। যুবকের অগ্নিদগ্ধ দেহ দেখে প্রথমে পুলিশ দুর্ঘটনা বলে মনে করলেও, তিন সপ্তাহ পর খুনের কিনারা হতেই শিউরে ওঠেন তদন্তকারীরা।

যা ঘটেছিল ইউপিএসসি পরীক্ষার্থীর সঙ্গে
নিহত যুবকের নাম রাম কেশ মীনা, যিনি নর্থ দিল্লির তিমারপুর এলাকার গান্ধী বিহারে একটি ফ্ল্যাটে থেকে ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গত ৬ অক্টোবর গান্ধী বিহার এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে পুলিশ তাঁর অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার করে।

তদন্তে নেমে দিল্লি পুলিশ জানতে পারে, এই ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডে জড়িত ২১ বছর বয়সী এক তরুণী, তার প্রাক্তন প্রেমিক এবং তাদের এক বন্ধু। লিভ-ইন সম্পর্কে থাকাকালীন রাম কেশ মীনা তাঁর সঙ্গিনী অমৃতার (ছদ্মনাম) কিছু অশ্লীল ছবি, ভিডিও এবং অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি তুলে হার্ড ডিস্কে জমা করে রেখেছিলেন। বারবার অনুরোধ করার পরও রাম সেই ছবি ও ভিডিও ডিলিট করতে রাজি হননি। এই ক্ষোভে প্রতিশোধ নিতেই অমৃতা তাঁর প্রাক্তন প্রেমিককে নিয়ে খুনের পরিকল্পনা করেন।

খুনের পরিকল্পনা ও হত্যাকাণ্ড
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার আগের দিন রাতে দু’জন যুবক মুখ ঢেকে ফ্ল্যাটে ঢোকে। পরে অমৃতা চৌহান (মৃতের লিভ-ইন সঙ্গিনী) এবং সুমিত কাশ্যপ (প্রাক্তন প্রেমিক) ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পরেই ফ্ল্যাটে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে শুরু করে।

জেরায় অমৃতা পুলিশকে জানায়, ৫ অক্টোবর রাতে সুমিত কাশ্যপ ও সন্দীপ কুমার মিলে রামকে প্রথমে মারধর করে এবং পরে গলা টিপে খুন করে। এরপর তাঁর শরীরে তেল, ঘি এবং ওয়াইন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খুনের পর গ্যাস সিলিন্ডারটি তাঁর মাথার কাছে রেখে দেওয়া হয় যাতে বিস্ফোরণে দেহ শনাক্ত করা না যায়। খুনিরা রামের ল্যাপটপ, হার্ড ডিস্ক-সহ কিছু জিনিস নিয়ে পালিয়ে যায়।

গ্রেফতার তিন অভিযুক্ত
ঘটনার পর থেকেই অমৃতার ফোন বন্ধ ছিল। অবশেষে ১৮ অক্টোবর তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর ২১ অক্টোবর সুমিত কাশ্যপ এবং ২৩ অক্টোবর সন্দীপ কুমারকেও গ্রেফতার করা হয়।

রামের পরিবারের পক্ষ থেকে রহস্যমৃত্যু নিয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। পুলিশ রামের চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার করেছে এবং তদন্ত চালাচ্ছে। পুলিশের মতে, এই ঘটনা ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহারের এক ভয়ঙ্কর উদাহরণ।