“TMC-ভাঙার নেপথ্যে অমিত শাহ ও শুভেন্দু”-বিস্ফোরক দাবি সঞ্জয় রাউতের

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ভেঙে যাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে যখন বাংলার রাজনীতি তোলপাড়, তখন এই পরিস্থিতির নেপথ্যে কেন্দ্রীয় ষড়যন্ত্র দেখছেন শিবসেনা (উদ্ধবপন্থী) সাংসদ সঞ্জয় রাউত। তাঁর স্পষ্ট দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ভাঙানোর এই পুরো পরিকল্পনাটি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব এবং শুভেন্দু অধিকারীর মস্তিষ্কপ্রসূত।

ঋতব্রতর ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রাজ্য বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী দলনেতা হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সঞ্জয় রাউত বলেন, “ঋতব্রত ব্যানার্জি নামে ছেলেটা আমাদের সঙ্গে রাজ্যসভায় দেড় বছর ছিল। ওর মধ্যে এত হিম্মতই নেই যে দল ভেঙে দেবে। হঠাৎ করে ও নেতা হয়ে গেল—এর পেছনে অনেক বড় কারিগর কাজ করেছে।” রাউতের মতে, ঋতব্রত কেবল একটি ‘মুখোশ’, যার আড়ালে আসল কলকাঠি নেড়েছেন অমিত শাহ এবং শুভেন্দু অধিকারী।

মহারাষ্ট্রের ‘শিন্ডে মডেল’ কি বাংলায়? তৃণমূলের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক অস্থিরতার সরাসরি মিল খুঁজে পাচ্ছেন রাউত। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন কীভাবে একনাথ শিন্ডের বিদ্রোহের সময় বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ইডি (ED) ও সিবিআই (CBI)-এর ভয় দেখিয়ে বিধায়কদের দলে টেনেছিলেন। রাউতের কথায়, “মহারাষ্ট্রে কী হয়েছিল মনে নেই? ৩৫ জন বিধায়ককে বিজেপি ফোন করে তুলে নিয়েছিল। ইডি-সিবিআই-এর ভয় দেখিয়ে তাদের আনুগত্য বদল করতে বাধ্য করা হয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গেও ঠিক সেই একই ‘শিন্ডে মডেল’-এর প্রয়োগ করা হয়েছে।”

আর্থিক লেনদেনের ইঙ্গিত সঞ্জয় রাউত অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র ভয় দেখানোই নয়, এই দল ভাঙার পেছনে রয়েছে বড় অঙ্কের ‘পয়সার খেলা’। বিধায়কদের সংখ্যা জোগাড় করার যে সাংগঠনিক সক্ষমতা ঋতব্রতর দেখানো হচ্ছে, বাস্তবে তাঁর সেই ক্ষমতা নেই বলেই দাবি শিবসেনা সাংসদের।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি দল তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ার এই ঘটনাকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে দেগে দিয়ে সঞ্জয় রাউত বুঝিয়ে দিলেন, বিরোধী জোটকে কোণঠাসা করতে বিজেপি এখন সারা দেশে একই কৌশল অবলম্বন করছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এবং রাজনৈতিক প্রভাবের এই মেলবন্ধনে তৃণমূলের ভবিষ্যৎ এখন কোন দিকে যায়, তা নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy