নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই উত্তপ্ত আসানসোল। গত দু’দিন ধরে শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে, শান্তি ফেরাতে এবার জেলা প্রশাসন, রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) যৌথভাবে ময়দানে নামল।
‘জিরো টলারেন্স’ নীতি প্রশাসনের বুধবার এক জরুরি যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে কড়া বার্তা দিয়েছেন আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমার এবং জেলা শাসক এস. পু্ণাম্বালাম। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভোট-পরবর্তী হিংসার ক্ষেত্রে কোনও আপস করা হবে না। পুলিশের ভাষায়, এখন থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ হবে। যারা অশান্তি পাকানোর চেষ্টা করবে, তাদের রেয়াত করা হবে না।
জালে ২০০ জন, আরও গ্রেফতারের ইঙ্গিত পুলিশ কমিশনার জানান, অগ্নিসংযোগ এবং সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই ২০০-রও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একাধিক মামলা রুজু হয়েছে এবং অপরাধীদের চিহ্নিত করতে তল্লাশি অভিযান জারি রয়েছে। কমিশনার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলির অফিস, প্রশাসনিক ভবন বা ধর্মীয় স্থানের স্থিতাবস্থা নষ্ট করার চেষ্টা করলে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শান্তি বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ জেলা শাসক এস. পু্ণাম্বালাম জানান, ভোটগ্রহণ পর্ব শান্তিপূর্ণভাবে কাটলেও পরবর্তী এই হিংসা রোখাই এখন প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা মেনেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে বদ্ধপরিকর জেলা প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও ২৪ ঘণ্টা নজরদারির জন্য একটি ‘জয়েন্ট কন্ট্রোল রুম’ চালু করা হয়েছে।
বাহিনীর আহ্বান ও সতর্কবার্তা সিএপিএফ জেলা সমন্বয়কারী সুনীল কুমার সিং সাধারণ মানুষকে সংযত থাকার এবং প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে বা অশান্তির আঁচ পেলেই সাধারণ মানুষ তৎক্ষণাৎ ১০০ বা ১১২ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে জানাতে পারবেন।
শিল্পাঞ্চলে থমথমে পরিবেশ থাকলেও পুলিশের এই ব্যাপক ধরপাকড় ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তায় নতুন করে বড় কোনও সংঘর্ষ এড়ানো যাবে বলেই আশা করছে প্রশাসন।





