১৮তম পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই বেনজির রাজনৈতিক তরজা। শুক্রবার স্পিকার নির্বাচনের পর বিধানসভার অন্দরে চাঁচাছোলা ভাষায় শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন মানিকতলার হেভিওয়েট বিধায়ক তাপস রায়। বাংলায় গত ১৫ বছর ধরে চলা তৃণমূল জমানার ‘ভয়ের সংস্কৃতি’ এবং ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে বিধানসভার কক্ষেই সরব হন তিনি। একই সঙ্গে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে তাঁকে তীব্র ভাষায় নিশানা করেন তাপস।
‘এটা ছিল ধর্মযুদ্ধ’— বিধানসভায় গর্জে উঠলেন তাপস
এদিন বিধানসভার অধিবেশন শুরু হতেই রণংদেহী মেজাজে পাওয়া যায় মানিকতলার বিধায়ককে। বাংলায় নির্বাচনী হিংসার ইতিহাস টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এটা শুধু সরকার গড়ার নির্বাচন ছিল না, এটা ছিল ধর্মযুদ্ধ। এখানে শাসকবিরোধী স্লোগান চলবে না, তা আইন করে বন্ধ করতে হবে। তবে এখন পশ্চিমবঙ্গ ধীরে ধীরে ভয়মুক্ত হচ্ছে। কিন্তু অতীতে পশ্চিমবঙ্গে একটা নির্বাচনও কি রক্তপাতহীন হয়েছে?”
“তৃণমূল ফিরলে ১৫০টি লাশ গুনতে হতো”
ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে বলতে গিয়ে আরও বিস্ফোরক দাবি করেন তাপস রায়। তিনি বলেন, “বিজেপির ১৫০-র ওপর লাশ গুনতে হতো যদি এই সরকার (তৃণমূল) আবার ফিরে আসত। ওরা ঘরবাড়ি, দোকানপাট জ্বালিয়ে দিত। আর লক্ষ লক্ষ সমর্থক-কর্মী ঘরবাড়ি ও পাড়া ছাড়া হতো।”
তৃণমূলের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “এবার একটাও ভোট-পরবর্তী হিংসা হয়নি। যদি হয়ে থাকে এবং তাতে আমার নাম জড়ায়, তবে ওই সাড়ে ১২ হাজারের তালিকায় আমার নাম থাকবে। মুখ্যমন্ত্রী, আমি যদি কোনও ভোট-পরবর্তী হিংসায় জড়িত থাকি, তবে আমাকে সরাসরি জেলে পাঠাবেন।”
নাম না করে অভিষেককে তীব্র আক্রমণ
বক্তব্যের একপর্যায়ে নাম না করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন তাপস রায়। তিনি কটাক্ষের সুরে বলেন, “নির্লজ্জ না হলে কেউ ভোট-পরবর্তী হিংসার কথা বলে? বাংলার দল, আবার তার সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক! আমি নাম করছি না, সে তো ব্লক অঞ্চল থেকে বিজেপি প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেছিল যে তাদের হাড়গোড় ভেঙে দেওয়া হবে। সে যেন এবার বাইরে বেরোয়, বিজেপি তাকে কিছু করবে না। যা করার এবার তৃণমূলের অন্দরেই হবে এবং জনগণ করবে।”
স্পিকার পদ পেল উত্তরবঙ্গ, পরবর্তী অধিবেশন ১৮ জুন
উল্লেখ্য, প্রথম দিনের এই হাইভোল্টেজ অধিবেশনে প্রোটেম স্পিকারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পান তাপস রায়। সর্বসম্মতিক্রমে বিধানসভার নতুন অধ্যক্ষ (স্পিকার) হিসেবে নির্বাচিত হন কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসু। ১৮তম বিধানসভার প্রথম দিনে বিরোধীদের বক্তব্য রাখার পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়। এদিনের মতো অধিবেশন মূলতবি হওয়ার পর জানানো হয়েছে, আগামী ১৮ জুন পরবর্তী বিধানসভা অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে।





