বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের পর মহাকরণের অন্দরে দফতর বণ্টন নিয়ে বড়সড় চমক দিল শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভা। প্রথমে ক্রীড়া দফতরের দায়িত্ব মাথাভাঙার বিধায়ক নিশীথ প্রামাণিকের হাতে গেলেও, চূড়ান্ত তালিকায় এল বড় রদবদল। ক্রীড়া, যুবকল্যাণ ও ক্রেতা সুরক্ষা দপ্তরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক ইন্দ্রনীল খাঁ। আর চেয়ারে বসেই রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রকে ঢেলে সাজানোর একগুচ্ছ কড়া ও বৈপ্লবিক পরিকল্পনার কথা স্পষ্ট করে দিলেন নতুন মন্ত্রী।
লক্ষ্য এবার অলিম্পিক, প্রত্যন্ত গ্রামের প্রতিভাদের জন্য বড় সুখবর! দায়িত্ব গ্রহণের পরই ইন্দ্রনীল খাঁ রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্র নিয়ে তাঁর রূপরেখা স্পষ্ট করেছেন। তিনি জানান, এবার আর শুধু কলকাতা নয়, বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করাই হবে সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তাঁদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, আধুনিক পরিকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। অলিম্পিক, কমনওয়েলথ গেমসের মতো বিশ্বমঞ্চে যাতে বাংলার ছেলেমেয়েরা দেশের নাম উজ্জ্বল করতে পারে, তার জন্য ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে নতুন সরকার। এই লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘খেলো ইন্ডিয়া’ ও ‘ফিট ইন্ডিয়া’র সাহায্য নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
“আমাদের লক্ষ্য এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে বাংলার ছেলেমেয়েরা নিজেদের প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ ঘটাতে পারে। সুযোগ-সুবিধা বা টাকার অভাবে কোনো প্রতিভা যেন নষ্ট না হয়, তা নিশ্চিত করবে এই সরকার।” — ইন্দ্রনীল খাঁ, ক্রীড়ামন্ত্রী।
“সব খেলার সেরা বাঙালির ফুটবল, কিন্তু সুযোগ কোথায়?” বাঙালির ফুটবল আবেগ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অতীতের শাসকদলকে তীব্র নিশানা করেন নতুন মন্ত্রী। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা গর্ব করে বলি সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল, কিন্তু বাঙালি ফুটবলাররা পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছে কোথায়? আগের সরকার ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরকে কোনো গুরুত্বই দেয়নি। যার ফলে আজ বাংলার ফুটবলের এই দশা। অতীতে কী কী অনিয়ম ও বিতর্ক হয়েছে, তার সবটার মূল্যায়ন ও তদন্ত হবে।”
খেলার মাঠে নোংরা রাজনীতি ও সিন্ডিকেট রাজ খতমের হুঁশিয়ারি! ক্রীড়াক্ষেত্রে রাজনীতির রং লাগানো এবং স্বজনপোষণ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন ইন্দ্রনীল খাঁ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “খেলার মাঠে শুধু খেলাই হবে, কোনো রাজনীতি চলবে না। রাজনীতি করার জন্য রাজনৈতিক ময়দান খোলা আছে। খেলাধুলার পরিবেশকে সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত, সিন্ডিকেটমুক্ত এবং স্বজনপোষণমুক্ত করাই আমাদের নতুন সরকারের প্রধান অঙ্গীকার।”
নতুন ক্রীড়ামন্ত্রীর এই মারকুটে ইনিংস ও অনমনীয় অবস্থানকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বাংলার ক্রীড়ামহলে ব্যাপক আলোড়ন ও চর্চা শুরু হয়েছে। এখন দেখার, মাঠ থেকে সিন্ডিকেট রাজ হঠিয়ে বাংলার ক্রীড়াক্ষেত্রে সত্যিই কতটা জোয়ার আনতে পারেন নতুন মন্ত্রী।





