SIR-এর প্রক্রিয়ায় বড়সড় পরিবর্তন, জেনেনিন যা যা জেনে রাখা দরকার…?

বিহারে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়াকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক বিতর্ক ও নাগরিক উদ্বেগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার আরও ১২টি রাজ্য ও তিনটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে SIR 2.0 শুরু করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। বিশেষ এই ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়াটি আগামী ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হবে এবং ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে শেষ হবে।

দ্বিতীয় দফায় এই প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গ, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, গুজরাট, গোয়া, কেরালা, তামিলনাড়ু-সহ মোট ১২টি রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।

🔄 বিতর্ক এড়াতে SIR 2.0-তে যে ৪টি মূল পরিবর্তন আনা হয়েছে:
বিহারের SIR প্রক্রিয়া চলাকালীন কিছু নিয়ম নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক দেখা গিয়েছিল। এবার কমিশন সেই ভুল শুধরে প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, সহজ এবং নাগরিকবান্ধব করতে চারটি বড় পরিবর্তন এনেছে:

১. আধার কার্ডের স্বীকৃতি: বিহারে প্রথমে আধারকে পরিচয়পত্র হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এবার SIR 2.0-তে পরিচয়পত্র হিসেবে আধার কার্ড ব্যবহার করা যাবে। এটি ভোটারদের জন্য বিরাট স্বস্তির খবর।

২. সময়সীমা বৃদ্ধি: আগের SIR প্রক্রিয়া যেখানে আড়াই মাসে শেষ হয়েছিল, সেখানে এবার SIR 2.0 চলবে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে (৪ নভেম্বর থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি)। এর ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য মানুষ যথেষ্ট সময় পাবেন।

৩. নথি জমা দেওয়ার নিয়মে শিথিলতা: * পারিবারিক যোগসূত্রের সুবিধা: এবার থেকে নতুন ভোটারের নাম যুক্ত করতে পূর্ববর্তী ভোটার তালিকায় যদি পরিবারের (বাবা/মা/অন্য আত্মীয়) নাম থাকে, তবে তার জন্য আলাদা করে একাধিক নথি লাগবে না। * ফর্ম ৬ সরাসরি ব্যবহার: ভোটার তালিকায় নাম যোগ করার জন্য গণনা ফর্মের পাশাপাশি এবার শুরু থেকেই সরাসরি ফর্ম ৬ জমা দেওয়া যাবে।

৪. দাবি ও আপত্তি শোনার ব্যবস্থা: * এবার যাদের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না বা তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে, তাদের সকলকে নোটিশ পাঠানো হবে এবং শুনানির মাধ্যমে নিজের বক্তব্য পেশ করার সুযোগ দেওয়া হবে। বিহারে এই নোটিশ শুধুমাত্র নথি দিতে না পারা ব্যক্তিদেরই পাঠানো হয়েছিল।

🗓️ SIR 2.0-এর গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি (পশ্চিমবঙ্গ-সহ):
৪ নভেম্বর: বাড়িতে বাড়িতে এনুমারেশন (গণনা) পর্ব শুরু।

৯ ডিসেম্বর: খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ।

৯ ডিসেম্বর – ৮ জানুয়ারি, ২০২৬: দাবি ও আপত্তি জানানোর সময়সীমা।

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ।

প্রায় ৫,৩৩,০০০ বুথ-স্তরের কর্মকর্তা এই কাজে নিযুক্ত থাকবেন। কমিশন সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশে জানিয়েছে, নাম, ঠিকানা যাচাই করে নিন এবং নতুন করে নাম অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন হলে ফর্ম ৬ পূরণ করে জমা দিন। আধার-সহ বৈধ নথিপত্র প্রস্তুত রাখুন।