‘মথুরা নিয়ে নীরব কেন?’ অখিলেশ যাদবকে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ

অযোধ্যাকে ‘ধর্মীয় শহর’ হিসেবে গড়ে তোলার দাবি জানানোয় সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। অখিলেশের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে যোগীর পাল্টা প্রশ্ন, অযোধ্যা নিয়ে আগ্রহ দেখালেও মথুরার শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান নিয়ে অখিলেশ কেন নীরব?

অখিলেশকে যোগীর চ্যালেঞ্জ:

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এদিন সরাসরি অখিলেশ যাদবের ‘নির্বাচিত ক্ষোভ’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “আপনি যেখানে ভোটব্যাঙ্ক দেখেন, সেখানেই কথা বলেন। কিন্তু সত্য বলার সময় চুপ থাকেন। অখিলেশজি, আপনি যদি নিজেকে ধার্মিক প্রমাণ করতে চান, তবে মথুরা-বৃন্দাবন নিয়েও খোলাখুলি কথা বলুন। ভগবান কৃষ্ণের জন্মস্থানও সমান শ্রদ্ধার দাবিদার।”

সমাজবাদী পার্টির বিরুদ্ধে তোষণ রাজনীতির অভিযোগ:

অখিলেশ যাদবকে নিশানা করে যোগী বলেন, “আপনার নিজের সরকারই অতীতে রাম ভক্তদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিল। আজ যখন অযোধ্যা ত্রেতা যুগের গৌরব ফিরে পাচ্ছে, তখন হঠাৎ আপনার নজর পড়েছে। আসলে আপনার রাজনীতি তোষণের। মোল্লা ও ধর্মগুরুদের তোষামোদ করা ছাড়া রাজ্যের উন্নয়ন বা কাশীর পরিচয় রক্ষার কোনো কর্মসূচি আপনার নেই।”

২০২৭-এর পূর্বাভাস:

মুখ্যমন্ত্রী আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেন, ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সমাজবাদী পার্টি কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে এবং রাজ্যের জনগণ আবারও ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ওপরই আস্থা রাখবে। অখিলেশ যাদবকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, “রাম লালার দর্শন করলে হয় তো আপনার প্রজ্ঞা ফিরবে!”

রাজনৈতিক অস্থিরতা:

রাজনৈতিক মহলের মতে, অযোধ্যা এবং মথুরা ইস্যুকে কেন্দ্র করে যোগী আদিত্যনাথ যেভাবে অখিলেশকে কোনঠাসা করার চেষ্টা করছেন, তাতে উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে ‘হিন্দুত্ব’ কার্ডের প্রভাব আরও স্পষ্ট হচ্ছে। এসপি প্রধানের ধর্মীয় অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আদতে ভোটারদের কাছে বার্তা দিতে চাইছেন যে, বিরোধী দলের অবস্থান কেবল রাজনৈতিক সুবিধাবাদী।