স্কুল নয় যেন ‘আনন্দ আশ্রম’! নিজের সন্তানের মতো পড়ুয়াদের দেখভাল, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রশংসনীয় উদ্যোগ

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি স্কুল মানেই কেবল সরকারি নিয়ম-বিধি বা সীমাবদ্ধতা নয়, মানবিকতা ও অভিভাবকত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দুর্গাপুর-ফরিদপুর ব্লকের কেন্দুয়া অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়। এই স্কুলটি যেন ক্ষুদে পড়ুয়াদের কাছে শুধুই পাঠশালা নয়, বরং ‘আনন্দের স্কুল’।

স্কুল ছুট (Dropout) রুখতে এবং পড়ুয়াদের মেধাবী করে তুলতে প্রধান শিক্ষক-সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা সর্বক্ষণ তৎপর। তারা পড়াশোনা-সহ খাওয়া দাওয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন এবং শিশুদের নিজেদের সন্তানের মতো দেখভাল করেন।

বিশেষ দিনে স্পেশাল মেনু: প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, মিড-ডে মিলের সামান্য সরকারি টাকায় ডাল-ভাত, সবজি বা খিচুড়ি ছাড়া বিশেষ কিছু আয়োজন করা সম্ভব হয় না। তাই শিক্ষক-শিক্ষিকারা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়েছেন। বছরের বিশেষ দিনগুলোতে, যেমন শিক্ষক দিবস, স্বাধীনতা দিবস বা প্রজাতন্ত্র দিবসে, তাঁরা নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে মিড-ডে মিলের তালিকায় মাছ, মাংস-সহ নানা সুস্বাদু খাবারের আয়োজন করেন।

এটাই শেষ নয়—প্রতি মাসে জন্মদিন ও অন্যান্য খরচ: শিক্ষকদের এই মানবিক উদ্যোগ এখানেই শেষ নয়:

মাসিক জন্মদিন পালন: প্রতি মাসে যে সব পড়ুয়াদের জন্মদিন থাকে, তা একসঙ্গে স্কুলে পালন করা হয়। কেক, বিস্কুট ও মিষ্টি খাওয়ানো হয় শিশুদের।

স্কুলের রক্ষণাবেক্ষণ: স্কুল চত্বরে ঝোপঝাড় পরিষ্কার, ক্লাসরুম পরিষ্কার, ফ্যান ও জলের কল মেরামত—স্কুলের সমস্ত ছোটখাটো মেরামতি কাজও শিক্ষকরা নিজেদের বেতনের টাকায় করে থাকেন।

সুরক্ষিত বাড়ি পৌঁছানো: স্কুল ছুটির সময় কোনো অভিভাবক যদি পড়ুয়াকে নিতে না আসেন, তবে শিক্ষিকারা নিজেদের দায়িত্বে ক্ষুদে পড়ুয়াকে বাড়ি পৌঁছে দেন বা অভিভাবকদের ফোন করে ডাকেন।

বর্তমানে প্রি-প্রাইমারি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ৬৭ জন পড়ুয়া এই স্কুলে পড়াশোনা করে। অভিভাবকরা শিক্ষকদের এই মানবিক উদ্যোগ এবং হাতে ধরে পড়াশোনা শেখানোর জন্য অত্যন্ত খুশি।