SIR-এর নামে NRC-র চক্রান্ত, মমতার অভিযোগে পাল্টা শুভেন্দুর! সিইও ও তাঁর বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনী চাইলেন বিরোধী দলনেতা

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা বা SIR (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে তৈরি হওয়া সংঘাত এবার চরম পর্যায়ে পৌঁছল। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদে এবার মাঠে নামলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের বিরুদ্ধে যেন দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল ও তাঁর বাড়ির নিরাপত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনেরও দাবি তুলেছেন শুভেন্দু।
বিরোধী দলনেতা তাঁর এই আর্জি জানিয়ে ইতিমধ্যেই এক্স হ্যান্ডেলে (সাবেক টুইটারে) একটি বিস্তারিত পোস্ট করেছেন। এই ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে পুরোদমে চাপানউতোর শুরু হয়ে গিয়েছে।
মমতার অভিযোগ: SIR আসলে NRC-র চক্রান্ত
সাম্প্রতিককালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশন ও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তাঁর সাফ দাবি, SIR-এর নামে আসলে রাজ্যে NRC করার চক্রান্ত চলছে। তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পাশাপাশি রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিকদেরও তীব্র কটাক্ষ করেছেন।
অন্যদিকে, SIR-এর কাজ খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশনের একটি বিশেষ টিম বাংলায় এসেছে। ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতীর নেতৃত্বে এই টিম বুধবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক ছাড়াও দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাশাসক ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। এর পর থেকেই SIR জল্পনা তুঙ্গে।
মুখ্যমন্ত্রী বারবার প্রশ্ন তুলছেন, এত দ্রুত কীভাবে এই কাজ করা সম্ভব। তিনি অভিযোগ করেন, বিএলও-দের (Booth Level Officers) ডেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
শুভেন্দুর আর্জি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ
মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে শুভেন্দু অধিকারী এক্স হ্যান্ডেলে দেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (Chief Election Commissioner) দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। পোস্টে তিনি লিখেছেন,
“গভীর উদ্বেগের সঙ্গে আমি ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছেন, সিইও-এর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছেন…।”
শুভেন্দু অধিকারীর এই দাবি, রাজ্যের সাংবিধানিক পদাধিকারীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করল এবং SIR বিতর্কের রাজনৈতিক মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিল।