‘SIR’-আতঙ্ক, ভারতে আধার কার্ড থাকা সত্ত্বেও শ’য়ে শ’য়ে মানুষ পালাচ্ছে বাংলাদেশে!

ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ প্রক্রিয়া ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) শুরু হতেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার ভয়েই শত শত মানুষ, যাদের হাতে রয়েছে ভারতের বৈধ আধার ও ভোটার কার্ড, তারা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার মরিয়া চেষ্টা করছে।
বসিরহাট মহকুমার হাকিমপুর সীমান্তে ইন্ডিয়া টুডে-র গ্রাউন্ড রিপোর্টে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর চিত্র। গত জুলাই মাস থেকে এই প্রবণতা শুরু হলেও বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ লোক সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
🎫 ভুয়ো নথি বানিয়ে ভারতে বসবাস
ইন্ডিয়া টুডে-র রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, সীমান্ত পেরোনোর চেষ্টা করা এই ব্যক্তিরা কয়েক বছর আগে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছিল। বৈধ নথি ছাড়াই এপারে বসবাস শুরু করে এরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা জালিয়াতির মাধ্যমে আধার কার্ড এবং ভোটার কার্ডও তৈরি করে নিয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই ভারতে লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনে ভোটও দিয়েছেন।
💔 দুই চাঞ্চল্যকর কেস স্টাডি
১. মিঠু মোল্লা ও পরিবার:
অনুপ্রবেশ: মিঠু মোল্লা তাঁর মা, বোন, ভগ্নীপতি এবং দুই সন্তানের সঙ্গে ধামাখালিতে নদী সীমান্ত দিয়ে দালালকে মাথা পিছু ৬ হাজার টাকা দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।
নথি জালিয়াতি: ভারতে এসে মিঠু আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড তৈরি করেন এবং ৩ বার ভোটও দিয়েছেন। তাঁর মায়ের দাবি, দুয়ারে সরকার ক্যাম্প থেকে এই নথিগুলি তৈরি হয়।
পালানোর কারণ: মিঠু নিউ টাউনে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। SIR শুরু হতেই তিনি এবং তাঁর পরিবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
২. দৃষ্টিহীন মেহেদি হাসান আহমেদ:
দীর্ঘ বসবাস: বাংলাদেশের বাসিন্দা মেহেদি হাসান আহমেদ প্রায় ২০ বছর আগে চোখের চিকিৎসার জন্য বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারতে এসেছিলেন এবং আর ফিরে যাননি।
বর্তমান ঠিকানা: ২০ বছর ধরে তাঁরা হুগলি জেলার ডানকুনিতে বসবাস করছেন।
দেশে ফেরা: SIR শুরু হতেই দৃষ্টিহীন এই ব্যক্তি বাংলাদেশে ফিরতে চাইছেন এবং সেখানে গানকে পেশা হিসেবে বেছে নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
🚨 সীমান্তরক্ষীর হাতে তুলে দেওয়া হলো
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, SIR আতঙ্কে বহু পরিযায়ী শ্রমিক বাংলাদেশের সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলায় ফিরে যেতে চাইছেন। ইন্ডিয়া টুডে-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় ২০০ জন বাংলাদেশিকে সে দেশের সীমান্তরক্ষীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ভেরিফিকেশনে দেখা গেছে, তাদের কারও কাছেই ভারতে বসবাসের বৈধ নথি ছিল না। তাঁদের বায়োমেট্রিকও নেওয়া হয়েছে।
বসিরহাট জেলা পুলিশের সুপার হোসেন মেহদি রহমান এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তিনি জানান, “এই প্রক্রিয়ায় বিএসএফ (BSF) জড়িত। যা হচ্ছে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশেই হচ্ছে।”